তিনি মাসে ১০৮২টি অভিযোগ পেয়েছে সাইবার পুলিশ
অনলাইনে বিচরণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবে এই মাধ্যমে অপরাধের মাত্রা বাড়লেও এ নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ভার্চুয়ালি অভিযোগ এবং মামলার ঘটনা ততটা বাড়ছে না। গত ৫ বছরের মধ্যে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ ৪২ হাজার ৯৪৭টি অভিযোগ মিললেও এই সংখ্যাটা ক্রমান্বয়ে কমছে। ২০২২ সালে রেকর্ড হয়েছে ৩৪ হাজার ৫১২টি। পরের বছর হয়েছে ২৮ হাজার ২১২টি। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা নেমে দাঁড়ায় ২১ হাজার ৭৭২টিতে। আর চলতি বছরের গত আট মাসে এই সংখ্যাটা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ হাজার ৮০৯টিতে। অর্থাৎ অভিযোগ প্রাপ্তির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টারে জমা পড়া পরিসংখ্যানের এই পড়ন্ত সংখ্যার মধ্যে দেখা গেছে অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা নিয়ে এসেছে সবচেয়ে বেশি ৪৫৭টি অভিযোগ। গত ১ জুন থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সিআইডি’র সাইবার পুলিশ সেন্টারে জমা পড়েছে ১০৮২টি। কেনা কাটায় প্রতারণা ছাড়াও অনলাইনে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণা ৩২১টি, চাকরির প্রতারণা ৪৯টি, ঋণ দেওয়ার প্রতারণা ৩২টি, এনআইডি সংশোধনের নামে ১১টি, মোবাইল ফোন রিচার্জ অথবা ডাটা কেনার নামে ৬৮টি অভিযোগ পেয়েছে পুলিশের সাইবার ইউনিট।
পুলিশের অপরাধ সানাক্ত বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, এর মধ্যে চলতি বছরের গেলো আট মাসে ফেসবুকে পাঁচ হাজার ৫৮২টি এবং হটলাইনে পাঁচ হাজার ২২৭টিসহ মোট অভিযোগ মিলেছে ১০ হাজার ৮০৯টি। এর মধ্যে ৪০২০টি ফেসবুকেই সমাধান হয়েছে। ফোনে সমাধান করা হয়েছে তিন হাজার ৯২০টি অভিযোগের। মামলা হয়েছে ৩টি।
২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত নিজেদের সাইবার সাপোর্ট ডেস্কের হটলাইনে এবং ফেসবুক পেজে মোট এক লাখ ৭৪ হাজার ৮৩০ জনের অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট। এর মধ্যে ৯০ হাজার ৫৭৪ জনকে তাৎক্ষণিক সেবাও দিয়েছে তারা। আর অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা দুই হাজার ৭৮৯টি অভিযোগের মধ্যে মামলা হয়েছে ৪০টির বিরুদ্ধে।
২০২৪ সালে প্রাপ্ত মোট ২১ হাজার ৭৭২টি অভিযোগের মধ্যে ২৪১টি ঘটনার অনুসন্ধানে মামলা হয়েছে ৯টি। আগের বছরেও মামলার সংখ্যা ছিলো একই। তবে বছর হিসেবে ২০২১ সালে সবচেয়ে কম ৫টি মামলা রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। আর ২০২২ ও ২০২০ সালে মামলা গ্রহণ হয় সমান ৭টি করে।
এদিকে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডশন (সিক্যাফ) এর ‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রবণতা-২০২৪’ শীর্ষক বার্ষিক গবেষণা প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, অনলাইনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাদের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই অভিযোগ করেন না। অপরাধের শিকারদের মধ্যে প্রায় ৫৯ শতাংশই নারী এবং তরুণরাই (১৮-৩০ বছর বয়সী) প্রধানত এ ধরনের অপরাধের ভুক্তভোগী। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যারা যান তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভুক্তভোগী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সিক্যাফের গবেষণা বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করা ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অভিযোগ করেও কোনো ধরনের সুফল পাননি বলে জানিয়েছেন ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ভুক্তভোগী। যদিও নেটজগতে প্রতারণার শিকার হওয়াদের বেশির ভাগই শিক্ষিত নাগরিক।
এমন বাস্তবতায় হুন্ডি, অনলাইন গ্যাম্বলিং, গেমিং, বেটিং, ফরেক্স এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে সংঘটিত অবৈধ লেনদেন বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সচেতনতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।







