বাণিজ্যিক যাত্রায় ৪জির দামে রবি'র ৫জি

বাণিজ্যিক যাত্রায় ৪জির দামে রবি'র ৫জি
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৫:২৩  
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ২২:২৫  

ফোরজি হ্যান্ডসেট আছে দেশের ৬০ শতাংশের হাতে। ফাইভজি হ্যন্ডসেট আছে ৭ শতাংশ মানুষের কাছে। তবে পেনিট্রশন ১৫-২০ শতাংশ। 

এই পেনিট্রেশন নিয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে হুয়াওয়ে ও এরিকসনের কারিগরি সহায়তায় দেশে সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক ৫জি সেবা উদ্বোধন করলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশষ সহকারি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সোমবার সাবার আগে এই সেবা চালু করলো রবি।

রবির কর্পোরেট অফিসে সেবার উদ্বোধনীতে প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব শাহেদুল আলম জানান, আপাতত ফোরজির দরেই ৫জি ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামের গ্রাহকেরা। আগামী বছর নাগাদ চাহিদার ভিত্তিতে ৫০০ সাইটে এই সেবা ছড়িয়ে দিতে চায় রবি।

শাহেদ আলম বলেন, ‘আমরা গ্রাহক অভিজ্ঞতা নিচ্ছি এবং দেখছি যে ফাইভ-জি কতটুকু কাজ করছে। ফাইভ-জি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন চলতে থাকবে। এই নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের বিষয়টি নির্ভর করবে গ্রাহক অভিজ্ঞতা এবং ফাইভ-জি উপযোগী ডিভাইসের ওপর।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী, স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগের  কমিশনার মাহমুদ হোসেন; স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আমিনুল হক; ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, এখনো দেশে ৩৫ শতাংশ মানুষ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। এই ডিজিটাল বিভাজন কমাতে হবে। নইলে প্রযুক্তি আসলেও তা সবার জীবনে সমানভাবে কাজে লাগবে না। 

‘জি কোনো প্রযুক্তি নয়, এটা রিয়েল টাইম সল্যুশন। তাই ৫জির সফট লঞ্চে যেন গ্রামের মানুষ পিছিয়ে না পড়ে সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরাও বিদ্যমান ২ লাখ কিলোমিটার ফাইবারকে প্রয়োজনীয় ৫ লাখে উন্নীত করতে আমরা ফাইবার স্থাপনেও গণতন্ত্রায়ণে গুরুত্ব দিচ্ছি’- যোগ করেন তিনি।  

৫জি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এমদাদ উল বারী বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী অন্তত পাঁচ লাখ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক লাগবে। বর্তমানে যে নেটওয়ার্ক আছে, সেটিকে শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। আজ ৫জি এসেছে, কাল ১০জি আসবে। কিন্তু প্রযুক্তির উদ্দেশ্য কেবল গতি বাড়ানো নয়। এর মূল লক্ষ্য মানুষের জীবনের সমস্যা সমাধান করা—শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা স্মার্ট ফার্মিংয়ে প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় জিরোজির যুগও আসেনি। কারও বাড়িতে ল্যান্ডলাইন থাকলেই পাড়ায় তাকে আলাদা সমীহ করা হতো। বিপদে–আপদে সবাই ওই বাড়ির ফোন ব্যবহার করত। তবে ফোনে তালা দিয়ে রাখা হতো, যাতে বেশি ব্যবহার না হয়। তখনই আমাদের মতো টেক–সেভিদের কাজ ছিল তালাবদ্ধ টেলিফোন চালানোর ফাঁকফোকর খুঁজে বের করা। সেটাই ছিল আমার প্রথম উদ্ভাবন।’

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রবি’র ভারপ্রাপ্ত সিইও রিয়াজ রশীদ, ও  চিফ কমার্সিয়াল অফিসার শিহাব আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এম. রিয়াজ রাশিদ বলেন, “সরকারের ভিশন ও নীতিগত সহায়তার কারণেই আমরা দ্রুততম সময়ে ৫জি বাস্তবে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এই পরীক্ষামূলক রোলআউট বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে পরবর্তী ধাপে নিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। দেশের মানুষ এখন হাতে-কলমে ভবিষ্যতের কানেক্টিভিটি অভিজ্ঞতা করতে পারবেন।”

জানাগেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে রবি’র ৫জি সেবা  ইতিমধ্যে সক্রিয় করা হয়েছে। ঢাকার ফকিরাপুল (পল্টন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু এলাকা (শাহবাগ), মগবাজার চৌরাস্তা, চট্টগ্রামের খুলশি, সিলেটের সাগরদিঘীর পার এলাকায় এখন ৫জি সেবা সক্রিয় রয়েছে। 

সোমবার ৩ বিভাগে পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক ৫জি-তে রবি