দেশের প্রথম রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ৬২টি রোবট

দেশের প্রথম রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ৬২টি রোবট
৩১ আগষ্ট, ২০২৫ ০৯:০৫  
৩১ আগষ্ট, ২০২৫ ০৯:০৮  

আধুনিক প্রযুক্তি-নির্ভর পুনর্বাসন চিকিৎসায় এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের পুনর্বাসনে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপারস্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থাপিত হয়েছে দেশের প্রথম রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। এখানে রয়েছে মোট ৬২টি রোবট।

এর মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক। এসব রোবটের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেন্টারটি চালুর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে চীনের সাত সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ২৭ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করলে এবং প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেন্টারটি যেসব রোগী স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়ুবিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা বা শরীরের অঙ্গের দুর্বলতাসহ জটিল পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন তাদের উপকারে আসবে।

 ৩১ আগস্ট রবিবার সকালে সেন্টরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত, মি. ইয়াও ওয়েন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করবেন বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম।

গত ১০ জুলাই রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প শুরু হয় চীনের কারিগরি সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টারটি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চীনের সরকার এ প্রকল্পে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। প্রযুক্তির দিক থেকে এই সেন্টারটি হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার; যা বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে উঠবে।