প্রতি চার পরিবারের তিনটিতেই আছে স্মার্টফোন
ইন্টারনেটে যুক্ত দেশের ৬৪ শতাংশ পরিবার
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে স্মার্টফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটিতে অন্তত একটি স্মার্টফোন রয়েছে। আর দেশের ৬৪ শতাংশ পরিবারে কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটে সংযুক্ত। ধীরে ধীরে বাড়ছে ডিজিটাল ব্যবহারে নারীর অংশগ্রহণ।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) প্রকাশিত এক গবেষণায় স্মার্টফোন ব্যবহারের এ তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে ২৫ আগস্ট সোমবার এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান। এসময় তিনি বলেন, ‘স্মার্টফোন ব্যবহারে আমাদের বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। বাজারে দামি স্মার্টফোনের পাশাপাশি অনেক সস্তা (কম) দামের স্মার্টফোনও আছে। নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষেরা এসব স্মার্টফোন কিনে নিজেদের চাহিদা পূরণ করছেন।’
পিপিআরসির জরিপে স্মার্টফোন নিয়ে বিষয়ে জানানো হয়, বর্তমানে দেশের প্রায় ৭৪ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন আছে। আর ৬৪ শতাংশ পরিবারে কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেট সংযোগ আছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই মোবাইল নেটওয়ার্ক–নির্ভর। আর ব্যক্তি হিসাব করলে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬৮ শতাংশ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এরমধ্যে যেসব পরিবারে তরুণ–তরুণী বেশি, সেসব পরিবারে স্মার্টফোনের ব্যবহারও তুলনামূলক বেশি; অর্থাৎ স্মার্টফোন ব্যবহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তরুণেরা চালক হিসেবে কাজ করছেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৫০ শতাংশ স্মার্টফোন মোবাইল আর্থিক সেবায় (MFS) ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, ৮০ শতাংশ ব্যবহারকারী স্মার্টফোনে ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন।
ইন্টারনেট ও কম্পিউটারের অগ্রগতির চিত্রে উঠে এসেছে, গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৮ শতাংশে। কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখন ৯.২ শতাংশ। শহরে ২১.৯ শতাংশ এবং গ্রামে মাত্র ৩.৭ শতাংশ পরিবারে কম্পিউটার রয়েছে। এখনো ফিচার ফোনের ব্যবহার গ্রামে বেশি, কারণ অনেক সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ভাতা সংগ্রহে ফিচার ফোনই যথেষ্ট। প্রাতিষ্ঠানিক কাজকর্মে কম্পিউটারের ব্যবহার বেশি হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা যায়, যেসব পরিবারে তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বেশি, সেখানে স্মার্টফোনের ব্যবহারও তুলনামূলক বেশি। শিক্ষার্থী ও তরুণেরা অনলাইন ক্লাস, গবেষণা, ই-বুক ও নানা শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হচ্ছেন। প্রায় ৫০ শতাংশ ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ও ২০ শতাংশ স্মার্টফোন এসব শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং ও বিভিন্ন পরিষেবা মাশুল দেওয়া প্রভৃতি কাজে স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহৃত হয়।







