কারাগারে স্ট্রোক: হাসপাতালে ভর্তি যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য
২০০৯ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার। দায়িত্ব পালনের সময় অবৈধভাবে নিয়োগ এবং সরকারি ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের গত ১৬ জুন দুদকের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠান আদালত। ওই মামলায় তার জামিন মিললেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুদকের আরেকটি মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
এই মামলায় কারাগারাবাসে ১১ আগস্ট, সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তারকে (৬৮) যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের পুরুষ পেয়িং ওয়ার্ডে দেখা যায়, একটি বেডে আব্দুস সাত্তারের চিকিৎসা চলছে। একজন পুলিশ সদস্য ও দুজন কারারক্ষী তার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন।
নিকটাত্মীয়, যবিপ্রবির কর্মকর্তা ও শিক্ষকেরা তাকে দেখতে আসছেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক সাফায়েত হোসাইন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেছেন, ‘তিনি শঙ্কামুক্ত নন। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে জানা গেছে, তার মাথায় রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে তার চিকিৎসায় একটি টিম গঠন করা হবে।’
জানাগেছে, হাসপাতালে আনার সঙ্গে সঙ্গে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা, এডিএম কমলেশ মজুমদার, কারা হাসপাতালের চিকিৎসক সাজ্জাদ হোসেন দ্রুত হাসপাতালে যান।
তবে সাবেক উপাচার্য আব্দুস সাত্তার অসুস্থ হওয়ার পরে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন তার ছেলে ওয়াসিফ সাত্তার।
তিনি লিখেছেন, ‘যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্যের পদ গ্রহণের জন্য সত্তর বছর বয়সে আমার বাবাকে কারাগারে যেতে হলো। তার শারীরিক অবস্থার কথা বারবার আদালতে জানানো হলেও তিনি জামিন পাননি। অবশেষে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তিনি স্ট্রোক করেছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’



