বয়লার বিপর্যয়ে ৫০০ মেগাওয়াট উধাও

রামপালে ত্রুটিতে উৎপাদন অর্ধেকে লোডশেডিং বাড়ল

  • বয়লার অতিরিক্ত গরম ও কারিগরি জটিলতায় রামপাল কেন্দ্রের উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে
  • ​জাতীয় গ্রিডে ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতিতে খুলনা-বরিশাল অঞ্চলে লোডশেডিং বৃদ্ধি
  • ​ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের অপেক্ষায় তিন-চার দিনে স্বাভাবিক হওয়ার আশা কর্তৃপক্ষের

রামপালে ত্রুটিতে উৎপাদন অর্ধেকে লোডশেডিং বাড়ল
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৭  

বয়লার অতিরিক্ত উত্তপ্ত হওয়া ও অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক-থার্মাল বিপর্যয়ের কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

​১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বুধবার), কারিগরি ও যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে গত রবিবার সকালে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিদ্যুৎ উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গেছে। এতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ওজোপাডিকোর আওতাধীন খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম রূপ নিয়েছে; খুলনায় প্রতি এক ঘণ্টা অন্তর লোডশেডিং হওয়ায় জনজীবনে তীব্র দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

​ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যানুযায়ী, বুধবার দুপুর ১টায় আওতাধীন এলাকায় ৮০৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ মেলে ৬২৯ মেগাওয়াট, ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ১২৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে খুলনা জোনে ৬১৮ মেগাওয়াটের বিপরীতে ৪৯৪ মেগাওয়াট সরবরাহ দিয়ে ১২৪ মেগাওয়াট এবং বরিশাল জোনে ১৮৯ মেগাওয়াটের বিপরীতে ১৩৫ মেগাওয়াট দিয়ে ৫৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়। জোনভিত্তিক হিসাবে খুলনায় ৫৬ মেগাওয়াট, মাগুরায় ৮, কুষ্টিয়ায় ১৩, ঝিনাইদহে ১১, চুয়াডাঙ্গায় ৬, ফরিদপুরে ৬, রাজবাড়ীতে ১২, মাদারীপুরে ৬, শরীয়তপুরে ২, গোপালগঞ্জে ৪, বরিশালে ৩১, ঝালকাঠিতে ৫, পিরোজপুরে ৩, পটুয়াখালীতে ৬, বরগুনায় ৩ এবং ভোলায় ৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়া হয়। এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ৭৪৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ৭১৭ মেগাওয়াট (ঘাটতি ৩০ মেগাওয়াট; খুলনা জোনে ২৬ ও বরিশালে ৪ মেগাওয়াট)। ওই সময়ে মাগুরায় ৪, নড়াইলে ১, ফরিদপুরে ৬, রাজবাড়ীতে ১০, মাদারীপুরে ৩, শরীয়তপুরে ২, পটুয়াখালীতে ২ এবং ভোলায় ২ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় ৭৭৮ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ করায় কোনো লোডশেডিং ছিল না।

​ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এ কেন্দ্রে কয়লার পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বয়লারের অতিরিক্ত উত্তাপ মূল সংকট সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বন্ধ ইউনিটটি বর্তমানে ঠান্ডা করার (কুল ডাউন) প্রক্রিয়ায় রয়েছে। রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছালে বয়লারের মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরই মধ্যে দেশীয় প্রকৌশলীরা বয়লারের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছেন। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির শতভাগ উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।’

//ডিবিটেক/বিএনও/এমআইএসটি//