প্রান্তিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ দাম বাড়ছে না
নিম্ন আয়ের পরিবার ও প্রান্তিক বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বস্তি দিয়ে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে সীমিত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাখো পরিবার আগের মূল্যহারেই বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে এবং তাদের ওপর নতুন আর্থিক চাপ পড়বে না।
৪ জুন, বৃহস্পতিবার কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্যহার পুনর্বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহক এবং ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রথম ধাপের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে সম্প্রতি ঘোষিত বর্ধিত মূল্যহার কার্যকর হবে না।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাইফলাইন বা ০ থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সাই বহাল থাকবে। একইভাবে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট মূল্য ৫ টাকা ২৬ পয়সাই থাকবে। এর আগে ৩ জুন ঘোষিত মূল্য নির্ধারণে এই দুই শ্রেণির জন্য যথাক্রমে ৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিইআরসি জানিয়েছে, এ দুই শ্রেণির গ্রাহকদের পুরোনো মূল্যহার বহাল রাখার ফলে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য আয় কমে যাবে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রদান করতে হবে। তবে কমিশনের মতে, সীমিত আয়ের গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে এই সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় ছিল।
এর আগে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণার পর প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি ব্যয়ের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখার আবেদন জানায়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে কমিশন।
তবে অন্যান্য আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য ৩ জুন ঘোষিত নতুন বিদ্যুৎ মূল্যহার অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। অর্থাৎ শুধু প্রান্তিক ও স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকরাই এই সিদ্ধান্তের সুবিধা পাবেন।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণে লাইফলাইন সুবিধা সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কারণ স্বল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী পরিবারগুলোর বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। তাদের জন্য মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি এনে দেবে।
প্রসঙ্গত, ৩ জুন বিইআরসি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছিল। সে অনুযায়ী নতুন দাম ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে মাত্র একদিনের ব্যবধানে কমিশন মূল্যহার সংশোধন করে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য আগের দাম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
/ডিবিটেক/ এমএম/ ইকে/





