ঈদের ছুটিতে সাত দিনে ৯৯৯ এ ১০,০৭৮টি কল

ঈদের ছুটিতে সাত দিনে ৯৯৯ এ ১০,০৭৮টি কল
৩ জুন, ২০২৬ ১৭:২৯  

ঈদুল আজহার ছুটিতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাত দিনে পুলিশের সহায়তা চেয়ে মোট ১০ হাজার ৭৮টি কল রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ১ হাজার ৯৭৪টি কলই ছিল মারামারির ঘটনা সংক্রান্ত। এছাড়া জিম্মি করে রাখা সংক্রান্ত ৮৭১টি, অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে ৮০২টি, নারী ও শিশু নির্যাতনের ৬৬৩টি, সড়ক দুর্ঘটনার ৫৮৩টি, পারিবারিক সমস্যার ৫৩০টি এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা চেয়ে ৫১২টি কল আসে।

উৎসবের এই সময়ে শব্দদূষণের ঘটনায় ৩৬৬টি, বাসের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৩০৫টি এবং পশুর হাটে চাঁদাবাজি ও এক বাজারের গরু অন্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ৩০২টি কল পাওয়া যায়। বাকি ৩ হাজার ১৭০টি কল আসে অন্যান্য বিভিন্ন বিষয়ে।

কলপর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং ব্যক্তি আক্রোশ থেকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মতো বড় অপরাধের গ্রাফ বেশ নিম্নমুখী ছিল।

ঈদের এই ছুটির দিনগুলোতে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ও প্রশংসনীয় ঘটনাও সামনে এসেছে। গত ২৬ মে রাতে তেজগাঁও অফিস ক্রসিং এলাকায় কোরবানির পশুবাহী ট্রাক থেকে ছাগল চুরির সময় এক অটোচালককে হাতেনাতে আটক করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরের দিন ২৭ মে মৌচাক ক্রসিং এলাকায় এক নারীর মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে জনতা এক ছিনতাইকারীকে আটকে গণপিটুনি দিলে ট্রাফিক সার্জেন্ট নেওয়াজ তাকে উদ্ধার করে শাহজাহানপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। একই দিনে বেতার বার্তার ভিত্তিতে ট্রাফিক সার্জেন্ট রানা ইসলাম তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৩ জন ছিনতাইকারীকে আটকের পাশাপাশি ৬টি গরু ও ২টি ছাগল বোঝাই একটি ছিনতাই হওয়া পিকআপ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এছাড়া, ২৯ মে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে চেকপোস্টে থামার সংকেত উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টাকালে একটি প্রাইভেট জিপ আটক করে চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৩০ মে মহাখালী সাতরাস্তা এলাকায় একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত কভার্ডভ্যানে ধাক্কা দিলে পথচারীদের সহায়তায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা) আনোয়ার সাত্তার জানান, প্রতি বছরই ঈদে মারামারির অভিযোগ এলেও এবার সেই সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। মূলত জমিজমা, পারিবারিক বিরোধ, গ্রুপভিত্তিক ও স্থানীয় দ্বন্দ্ব থেকে এসব সংঘর্ষের সূত্রপাত।

সূত্রমতে, সাধারণত ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হলে পুরোনো বিরোধগুলো পুনরায় সামনে চলে আসে, যার ফলে এই সময়ে মারামারি ও শব্দদূষণ সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধি পায়। ৯৯৯-এ কল করা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট থানা ও সংস্থার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, সবক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগও রয়েছে। যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া লক্ষীপুর খোনাপাড়ার বাসিন্দা শামীমা আক্তার অভিযোগ করেন, গত ২৭ মে প্রতিবেশীদের আসবাবপত্র কেনা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়ে তিনি ৯৯৯-এ কল করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা বা কাউকে আটক করেনি। ফলে ঈদের আনন্দ মাটি হয়ে যায় তার পরিবারের। অবশ্য এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হুসাইন জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগটি তাঁর এই মুহূর্তে মনে না থাকলেও ভুক্তভোগীকে থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তবে ভুক্তভোগীদের বড় অংশই জানিয়েছেন, সরাসরি থানায় যোগাযোগে অনেক সময় গড়িমসি দেখা গেলেও ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছিল। পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, ২৪ মে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ‘মেগা চেকপোস্ট’ পরিচালনা ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়, যা ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। রাতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ টহল টিমও মাঠে কাজ করেছে। ফলে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক ছিল।

/ডিবিটেক/জেএনও/ইকে/