সাইবার আক্রমণের টার্গেটে কেন বাংলাদেশ?


সাইবার আক্রমণের টার্গেটে কেন বাংলাদেশ?
১৮ আগষ্ট, ২০২৫ ১৩:০১  
৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৯:১৫  

সাইবার নিরপত্তায় যেখানে সারাবিশ্বে নতুন নতুন উদ্দ্যেগ নেয়া হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশে কোন প্রকার উদ্দ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রতিনিয়ত সাইবার আক্রমন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিভিন্ন উপলক্ষ আসলে সাইবার আক্রমণের হার বেড়ে যাচ্ছে। এইসব সাইবার এট্যাক প্রতিরোধের জন্য কোন প্রকার উদ্দ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। অথচ এমন আক্রমন হ্যাকারগ্রুপ আগেই ঘোষণা দিয়ে গুরুত্তপূর্ণ সেবাগুলোতে সাইবার আক্রমন চালাচ্ছে। অপ্রতুল সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্বল প্রযুক্তি এর অন্যতম কারণ। 

মূলত বাংলাদেশের ওয়েবসাইট গুলো এমন ভাবে বানানো যা নিতান্তই দূর্বল, কমদামে ওয়েবসাইট তৈরি করা, দূর্বল ডেভেলপার বা প্রোগ্রামার দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা, একই টেমপ্লেট দিয়ে বিভিন্ন সাইট তৈরি করা এবং নিম্নমানের হোস্টিং সেবাতে হোস্ট করা অনেকাংশে দায়ী। বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইট বানিয়ে দায় দায়িত্ত শেষ মনে করে, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে তেমন মাথাব্যাথা উনাদের নেই। সাইবার নিরাপত্তায় কোন প্রকার ইনভেস্ট করতে রাজী নন। 

সরকারী ও শিক্ষামূলক এইসব ওয়েবসাইটে ভর্তি রেজিট্রেশন, আবেদন, ভর্তির প্রক্রিয়া, রেজাল্ট সব করে থাকে কিন্তু হ্যাকাররা এইসব ওয়েবসাইটের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সেই সব ওয়েবসাইটের ডেটাবেজে ডুকে সেই সব তথ্যসমূহ বেহাত করে দিচ্ছে, প্রতিষ্ঠানসমূহ জানেই না তাদের সব ডেটা অন্যের হাতে চলে যাচ্ছে। অনেকসময় জানার পরও চুপ থেকে যাই। একটা ওয়েবসাইট তৈরির পর সেটার দূর্বলতাগুলো মূল্যায়ন করে তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, যা প্রতিষ্ঠানসমূহ কখনোই করে না। 

সাইবার আক্রমন প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারকে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরো বেশী উদ্দ্যেগ গ্রহণ করতে হবে, সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমুহে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশনা দিতে হবে, নিয়মিত ওয়েবসাইট ও সার্ভারের দূর্বলতা মূল্যায়ন করতে হবে, ভালোমানের ডেভেলপার দ্ধারা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, সর্বশেষ প্রযুক্তি ও প্রোগ্রামিং ভাষা দ্ধারা সাইট তৈরি করতে হবে, সাইবার নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট তৈরিতে জোড় দিতে হবে। যেইসব আইপি থেকে প্রতিনিয়ত সাইবার এট্যাক পরিচালিত হচ্ছে তা মনিটরিং করে ব্ল্যাকলিস্ট করতে হবে এবং অন্যদেশের সাথে সমন্বয় করে সেই সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারীভাবে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করতে হবে।  

প্রযুক্তি একটি পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া যা নিয়মিত মনিটরিং, পর্যবেক্ষন ও আয়ত্তে নিয়ে আসতে না পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে এবং নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষা লংগিত হবে। 

লেখকঃ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, ডিকোডস ল্যাব লিমিটেড।


দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজের। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুব্ধ বা উত্তেজিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।