১০ লক্ষ ‘এআই-নেটিভ’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ’ যাত্রা শুরু

১০ লক্ষ  ‘এআই-নেটিভ’  গড়ে তোলার লক্ষ্যে  ‘মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ’ যাত্রা শুরু
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:০৬  

বিগত দুই দশকে উন্নয়নের মাপকাঠি ইন্টারনেট ও ডিভাইসের প্রাপ্যতা হলেও, আগামী দশকের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সঠিক ব্যবহার। এই প্রেক্ষাপটে দেশের ১০ লক্ষ নাগরিককে ‘এআই-নেটিভ’ হিসেবে গড়ে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়ে যাত্রা শুরু করছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘মিলিয়নএক্স বাংলাদেশ’। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে শুরু হওয়া বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং বাংলাদেশের জনশক্তিকে ১০ গুণ অধিক দক্ষ করে তোলা। 

সেই স্বপ্ন নিয়েই আগামী ১৭ জানুয়ারি ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক-এ ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স’–এর মাধ্যমে শুরু হবে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক পথচলা। তবে এর আগের দিন ১৬ জানুয়ারি ঢাকার সোবহানবাগস্থ ড্যাফোডিল প্লাজাতে অনুষ্ঠিত হবে ‘ন্যাশনাল এআই বিল্ড-এ-থন’। নিবন্ধিত ৩৮৪টি দল থেকে নির্বাচিত ৬২টি দল ৫টি ক্যাটাগরিতে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

উদ্যোগটির প্রধান উদ্যোক্তা প্রযুক্তিবিদ ড. জুনায়েদ কাজী জানান, "এআই একটি বিশাল ‘এনাবেলার’, যা যেকোনো উদ্যোগকে কয়েক গুণ বিকশিত করতে পারে। আমাদের লক্ষ্য হলো শিশু-কিশোর, শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সরকারি নীতিনির্ধারক—সব স্তরে এআই-কে পৌঁছে দেওয়া, যাতে প্রত্যেকে তাদের কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়াতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, উদ্ভাবন, নীতিনির্ধারণ, শিল্পখাত এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—এই পাঁচটি ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।" ৭ জানুয়ারির ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স’ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এই লিংক থেকে।

সূত্রমেত, উদ্বোধনী দিনে আয়োজিত ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স’–এর মাধ্যমে দেশীয় মেধা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে একটি ‘জাতীয় এআই চার্টার’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকবে কী-নোট সেশন, প্যানেল আলোচনা এবং একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির যোগসূত্র স্থাপনের বিশেষ সেশন। এতে দেশি-বিদেশি প্রযুক্তিবিদ, নীতিনির্ধারক ও শিল্পনেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে আনিস রহমান বলেন, "সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি এআই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দেশের তরুণদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক এবং ‘টেন এক্স’ মনন তৈরি করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।"

কনফারেন্সের আগের দিনের আয়োজন বিষয়ে প্রযুক্তিবিদ মোহাম্মদ মাহাদীউজ্জামান জানান, "তরুণদের এআই নিয়ে প্রবল আগ্রহকে উৎপাদনশীলতায় রূপান্তর করতেই এই আয়োজন। বিজয়ীদের আমরা পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করব।"

জানাগেছে, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) ও বিলিয়ন্স ফর বাংলাদেশ। কারিগরি সহযোগিতায় রয়েছে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS), ক্যারিয়ার ক্যানভাস এবং ভার্সেল ভিজিরো।

ডিবিটেক/ এমএম/এমইউএম