বিটিআরসি’র দুই উপ-পরিচালকের বদলি আদেশে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) দুই উপ-পরিচালকের বদলি আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসাথে আইনবহির্ভূতভাবে দেওয়া ওই বদলি আদেশ কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বিটিআরসি’র দুই কর্মকর্তা-উপ-পরিচালক সনজিব কুমার সিংহ ও উপ-পরিচালক এস এম আফজাল রেজা’র দায়ের করা এক রিট পিটিশনের (নম্বর ৪৩৩২/২০২৬) প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী এবং বিচারপতি এ.এফ.এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ ২০২৬ এবং ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিটিআরসি’র উপ-পরিচালক (মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা ) স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি আদেশের মাধ্যমে ওই দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। আবেদনকারীদের দাবি, এই বদলি আদেশ প্রচলিত আইন ও বিধির পরিপন্থী এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শুনানি শেষে আদালত ওই বদলি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসি’র চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান জানান, আদালতের এই স্থগিতাদেশের ফলে ওই দুই কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলে বহাল থাকতে আর কোনো আইনি বাধা নেই। বর্তমানে আদালতের এই আদেশের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে, বিগত সময়ে বিটিআরসিতে পরীক্ষাবিহীন অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং অডিট আপত্তি রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চলতি বছরের মার্চ মাসে উচ্চ আদালতে রিট করেন বিটিআরসির উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ, কাজী মো. আহসানুল হাবিব, জাকির হোসেন খাঁন, এস এম আফজাল রেজা, মো. আসিফ ওয়াহিদ ও মো. হাসিবুল কবির।
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকার বাইরে বিটিআরসির যে পাঁচটি মনিটরিং স্টেশন বা স্থাপনা রয়েছে এবং এর মধ্যে রংপুর এবং সিলেটে বর্ণিত দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল, স্টেশনগুলোর বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো অনুমোদন নেই।
ডিবিটেক/এসআই/ইকে







