ইউরোপে পেট্রোল গাড়ির চাহিদায় বড় ধস

ইউরোপে পেট্রোল গাড়ির চাহিদায় বড় ধস
২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৫৪  

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ইউরোপে নতুন গাড়ি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। গত বছরের জুনের পর এই প্রথম ইউরোপের গাড়ির বাজারে মাসিক ভিত্তিতে বিক্রি কমলো। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় অটো লবি এসিইএ-র প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র দেখা গেছে। খবর রয়টার্স।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও আইসল্যান্ড মিলিয়ে জানুয়ারিতে মোট ৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮২টি নতুন গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের জানুয়ারির তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের মতো বড় বাজারগুলোতে এই পতন সবচেয়ে বেশি প্রকট।

সবচেয়ে বড় ধস নরওয়েতে, যেখানে জানুয়ারিতে নতুন গাড়ি নিবন্ধন ৭৬ শতাংশ কমেছে। দেশটিতে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও পেট্রোল গাড়ির চাহিদা প্রায় অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে।

পেট্রোলচালিত গাড়ির বিক্রি ফ্রান্সে ৪৯ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৩০ শতাংশ কমেছে। সামগ্রিকভাবে পেট্রোল গাড়ির বাজার অংশীদারিত্ব এক বছর আগে যেখানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিল, জানুয়ারিতে তা কমে মাত্র এক-পঞ্চমাংশের কিছু বেশি হয়েছে।

অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও হাইব্রিড গাড়ির বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইভি বিক্রি বেড়েছে ১৪ শতাংশ, প্লাগ-ইন হাইব্রিড ৩২ শতাংশ এবং হাইব্রিড ৬ শতাংশ। সব মিলিয়ে এই তিন শ্রেণীর গাড়ি মোট নিবন্ধনের ৬৯ শতাংশ দখল করেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৫৯ শতাংশ।

প্রধান গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে ফোক্সওয়াগেনের বিক্রি কমেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, বিএমডব্লিউ-র ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, রেনো-র ১৫ শতাংশ এবং টয়োটার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চীনের গাড়ি নির্মাতা বিপদে অবশ্য বড় সাফল্য পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি বেড়েছে ১৬৫ শতাংশ। স্টেলান্টিস ও মার্সিডিজের বিক্রিও বেড়েছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৭ ও ২ দশমিক ৮ শতাংশ।

মার্কিন ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা অবশ্য ধারাবাহিকভাবে পতনের মুখ দেখছে। এসিইএ-র তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে টেসলার বিক্রি ১৭ শতাংশ কমেছে, যা টানা ত্রয়োদশ মাস ধরে তাদের বিক্রি কমার ধারা অব্যাহত রেখেছে।

এই পতনের পেছনে চীনের সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা, কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পিছিয়ে দেওয়া এবং অনিশ্চিত বাণিজ্য পরিবেশকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।

ডিবিটেক/বিএমটি