আগামী সরকারের সামনের চ্যালেঞ্জ গুলো সমাধান করে যাচ্ছি : ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

আগামী সরকারের সামনের চ্যালেঞ্জ গুলো সমাধান করে যাচ্ছি : ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৫৮  

অল্প সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব আগামী সরকারের সামনের চ্যালেঞ্জ গুলো সমাধান করে যাচ্ছেন বলে আত্মতৃপ্তি প্রকাশ করণে  প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নীতি নির্ধারক বললেন, সব সমালোচনা, সব চাপ নিজের কাঁধে নিয়ে; তারা (আগামী সরকার) যেন ডিজিটাল ইকোনোমিকে এগিয়ে নিতে পারে, সব কছুকে আমি একক ভাবে দায়িত্ব নিয়ে তাদের সব চ্যালেঞ্জ সমাধান করে দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। গত বাজেটে কোনো প্রজেক্ট না নিয়ে, এক্সিসটিং রিসোর্স নিয়ে ইনস্টিটিউশনাল সক্ষমতা বাড়াতে চেষ্টা করেছি। সর্বত্র প্রজেক্ট অপ্টিমাইজেশনের চেষ্টা করেছি। আমি যখন দায়িত্ব নেই তখন বিশ্ব ব্যাংকের এজ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের হার ছিলো মাত্র ১১ শতাংশ। আজকে এটি বাস্তবায়নের হার ৮০ শতাংশ। এই রেকর্ড এর কারণে ডিজিটাল ট্রান্সফলমেশনে নতুন বিনিয়োগ ও ফান্ড আসবে। 

বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলে তিনি। নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ভয়েস ফর রিফর্ম ও টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্লাটফর্ম (টিআইপিএপি) এর যৌথ আয়োজনে এই গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারি। 

সভায় ‘বাংলাদেশে গড় আমদানি শুল্ক ৭৩ শতাংশের বেশি হলেও মোবাইল আমদানিতে এই হার ১০ শতাংশ নামিয়ে আনা হয়েছে। অন্যখাতে কেউ যদি এতোটা কমিয়ে আনতে পারে তবে সেটিকে বেস্ট প্র্যাক্টিস দেখিয়ে কর আরও কমাতে এনবিআর-এ যাবেন বলে প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব। 

এরপরও এ নিয়ে আন্দোলনকে অনভিপ্রেত উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘মোবাইল আমদানীকারকরা ৪৩ শতাংশ  ট্যাক্স দেয় না। তারা দেয় কাস্টম ডিউটি, রেস্টিকটিভ ডিউটি এবং এটিআই ডিউটি। এরমধ্যে এটেআই রিবেট করতে পারে। এরমধ্যে রেস্টিকটিভ ডিউটি ৩ শতাংশ।  কাস্টম ডিউটি ইতিম্যধ্যেই মধ্যে ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।’

‘যেহেতু শুল্ক কমেছে, মোবাইল ফোনের দাম অবশ্যই কমবে’ এমন দৃঢ়তা ব্যক্ত করে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন,  বাজার মনিটরিংয়ের জন্য এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার কাজ করবে।

 বিশেষ সহকারি আরও বলেন, ৩০ হাজার টাকার নিচে মোবাইল ফোনের অধিকাংশই দেশেই উৎপাদন হয়। যারা আন্দোলন (মুঠোফোন ব্যবসায়ীদের চলমান আন্দোলন) করছেন তাঁরা ৩০ হাজারের বেশি বিদেশ থেকে ফোন কেরিয়ার ও কন্টাক্টের মাধ্যমে নিয়ে আসেন। তাদের চাপ কমানোর জন্যই শুল্ক ৬০ শতাংশ কমানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নিয়ে ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা মুঠোফোনগুলোকে বৈধ করা হয়েছে, আগামী তিন মাস কোনো মুঠোফোন ব্লক হবে না। এত কিছুর পরও সড়কে আন্দোলন করা দুর্ভাগ্যজনক। এটা বিনিয়োগবান্ধব পরিস্থিতির বিরোধী বলে স্বীকৃত হবে। 
৮৮ লাখ সিম বন্ধ হওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ফয়েজ বলেন, এটা ঠিক। তবে এই সিমগুলোর ৬০-৭০ শতাংশই অব্যবহৃত ছিলো। তাই এটা নিয়ে পেনিক করার কিছু নেই। 

টিপাপ সম্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ, টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, আইসিটি বিভাগের শ্বেতপত্র প্রকাশ টাস্কফোর্সের প্রধান অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ প্রমুখ।