প্রকৌশল পেশাজীবীদের সমস্যা নিরসনে ৬ সদস্যের কমিটি

প্রকৌশল পেশাজীবীদের সমস্যা নিরসনে ৬ সদস্যের কমিটি
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০১  
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৯:২৭  

প্রকৌশলী পেশাজীবীদের (বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী) সমস্যা নিরসনে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কমিটির সুপারিশ না আসা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সব ধরনের কর্মসূচি বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিভাবক হিসেবে উপস্থিত থাকা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষরা এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে প্রকৌশলীদের পদবি ব্যবহারে (ইঞ্জিনিয়ার না ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার) কে কী লিখবেন-সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৭ সেপ্টেম্বর, বুধবার দুপুরে প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রায় ঘন্টাব্যাপী আলোচনা হয়। সভায় উভয় পক্ষ থেকে ছয় জন নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ারস বাংলাদেশ, ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষক, আন্দোলনকারীদের একজন প্রতিনিধি এবং বিপরীতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পক্ষে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের একজন প্রতিনিধি, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন শিক্ষক এবং আন্দোলনকারীদের একজন প্রতিনিধি থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এই কমিটিতে কেউ সভাপতি থাকছেন না। সবাই সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। 

কমিটির সভাপতি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সভাপতিত্বে সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হলেন আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিকম বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সভা শেষে সভাপতি মুহাম্মদ ফাওজুল কবির সাংবাদিকদের জানান, পেশাগত বিরোধ নিরসনে একটি কার্যকর, বাস্তবভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতেই এই কমিটি কাজ করবে। যতদিন না কমিটির সুপারিশ আসছে, আন্দোলন স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর প্রকৌশলীদের পদবি ব্যবহার বিষয়ে তিনটি পরামর্শ আলোচনায় উঠে এসেছে, যেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।

ফাওজুল কবির খান বলেন, ভিন্ন দাবিতে বিএসসি প্রকৌশলী এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা আন্দোলন করছেন। বিএসসি প্রকৌশলীদের তিন দফা দাবি এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সাত দফা দাবি। আজকে আমরা বসেছিলাম ডিগ্রি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের অভিভাবকদের সঙ্গে। আপনারা জানেন আদালতে খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে অ্যামিকাস কিউরির সাহায্য নেওয়া হয়-মতামত নেওয়ার জন্য। আমরা তাদেরকে মতামত দিতে বলেছি। আমাদের ডাকে সবাই এসেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা এসেছিলেন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষরা এসেছিলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় আমরা কয়েকটি সিদ্ধান্তে এসেছি। আমরা দেখেছি দুই পক্ষের দাবিগুলো খানিকটা পরস্পরবিরোধী। একজনের দাবি গ্রহণ করলে আরেকজন অসন্তুষ্ট হবেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে এর ভেতরে একটি সেতু গড়ে তোলা যায় কিনা, সেই জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এই কমিটি পরস্পরবিরোধী দাবিগুলোর ভিত্তিতে একটি বন্ধন তৈরি করার জন্য কাজ করবেন, যাতে তারা একমত হতে পারেন। অনেকটা জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের মতো। কারণ, নিজেরা সমাধান করলে সেটাই সবচেয়ে বড় সমাধান।

উপদেষ্টা বলেন, ওনারা এও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, ওই কমিটির সুপারিশ না আসা পর্যন্ত তারা আর কোনো আন্দোলন করবেন না। রাস্তাঘাটে জনদুর্ভোগ হয়-এমন কোনো কাজে তারা লিপ্ত হবেন না। আরেকটা জিনিস আমরা আলোচনা করেছি-কে কোন পদবি লিখবেন, এটার ব্যাপারে আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হইনি। তবে আলোচনা হয়েছে-ওনাদের কাছ থেকে তিনটি পরামর্শ পেয়েছি। প্রথমত, স্নাতক ডিগ্রিধারীরা ‘ইঞ্জিনিয়ার’ লিখবেন, অন্যরা নামের আগে ‘ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার’ লিখবেন। দ্বিতীয়ত, নামের আগে কেউ কিছু লিখবেন না, নামের পরে লিখবেন। তৃতীয়ত, প্রস্তাব হচ্ছে-কিছুই লিখবেন না। এসব পরামর্শ আমরা নিয়েছি।  

ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষসহ প্রকৌশলীদের দুটি পক্ষের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। মোট ৬০ জন এসেছিলেন।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আন্দোলনরত দুই পক্ষের দাবিগুলো খানিকটা পরস্পর বিরোধী। একজনেরটা গ্রহণ করলে আরেক জন অসন্তুষ্ট হবেন, অন্যজনেরটা গ্রহণ করলে আরেকজন অসন্তুষ্ট হবেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে একটা সেতু গড়ে তোলা যায়, সেই চেষ্টা করেছি। আমরা নিজেদের থেকে নয়, ওনাদের পরামর্শের ভিত্তিতে একটি ৬ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।'

‘এ কমিটি কাজ করবে যাতে দু-পক্ষের মধ্যে একটা সেতু গড়া যায়। পরস্পর বিরোধী বিষয়গুলো নিয়ে কিভাবে একমত হওয়া যায়। অনেকটা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মতো। নিজেরা নিজেরাই সমাধান করলে সেটা হল শ্রেষ্ঠ সমাধান’- যোগ করেন ফাওজুল কবির।

এর আগে গত ২৮ আগস্ট প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে ১৪ সদস্যের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছিলো। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামকে ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান করে কমিটিতে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে সভাপতি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সওবা) কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হককে সদস্যসচিব করা হয়েছিলো।

ওই সময় ফাওজুল কবির খান বলেছিলেন, যারা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের অভিভাবক ও চাকরিদাতাদের সঙ্গে বসা হবে। হঠাৎ করে তিন দফা বা সাত দফা বা তার খণ্ডিত অংশ মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া যায় না। তাই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

প্রকৌশল-কারিগরি বিভেদ মেটাতে শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে সমন্বিত বৈঠক