ফেসবুকে লাল টি-শার্ট পরা ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ

নুরের ওপর হামলা নিয়ে সরব ফেসবুক, আলোচনায় লাল শার্ট

নুরের ওপর হামলা নিয়ে সরব ফেসবুক, আলোচনায় লাল শার্ট
৩০ আগষ্ট, ২০২৫ ১৪:১৬  
৩০ আগষ্ট, ২০২৫ ১৮:২১  

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচিত লাল টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। হামলায় অংশ নেয়া লাল শার্ট পরিহিত ব্যক্তি একজন পুলিশ সদস্য।

৩০ আগস্ট, শনিবার দুপুরে নুরুল হক নুরের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই দাবি করা হয়। ওই পুলিশ সদস্য ছাত্রনেতা সম্রাটের ওপরও হামলা চালিয়েছেন। পোস্টে বলা হয়, ‘লালশার্ট পরিহিত ব্যক্তি পুলিশের কনস্টেবল। তার নাম মিজানুর রহমান বিপি নম্বর - ৯৭১৭১৯৭২৪৩। সে ছাত্রনেতা সম্রাটের উপর হামলা করেছে।’

তবে, লাল টি শার্ট পরিহিত ওই যুবক ডি বির কেউ নন বলে দাবি করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবিপ্রধান শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ।

অপরদিকে একই তথ্য ফেসবুক পেজে পোস্ট করে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান লিখেছেন, ‘লাল শার্ট পরা ব্যক্তি যাকে পিটিয়েছে সে নুরুল হক নুর নয়, সে ছাত্রনেতা সম্রাট। লাল শার্ট পরা ব্যক্তির ওপর দায় চাপিয়ে নুরুল হক নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। সেনাবাহিনীর যারা নুরুল হক নুরের ওপর হামলা করেছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এমনকি আমাদের কার্যালয়ে ঢুকে ও বাথরুম ভেঙে অসংখ্য নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে সেনাবাহিনী।’

এর আগে, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে নুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথায় আঘাতজনিত রক্তক্ষরণ হয়েছে, নাক ও ডান চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নুরের সঙ্গে ফোনে কথা বলে খোঁজ নিয়েছেন। তিনি হামলার ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানও নুরের ওপর হামলাকে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেছেন, নুরের ওপর হামলা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এ ধরনের অপকর্মে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এদিকে নুরের ওপর হামলায় শুক্রবার রাতেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক  হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, শুরুটা হয়েছিল রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা দিয়ে, যে পরিকল্পনা আমি ১১ মার্চ প্রকাশ করে দেই। সেই পুনর্বাসন ভেস্তে গেলেও ওরা থামেনি। সেই একই গ্রুপ এবার আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের জন্য বেছে নিয়েছে জাতীয় পার্টিকে।

তিনি আরও লিখেছেন, ভারতের প্রত্যক্ষ মদদে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ব্যাক করানোর এই খেলায় প্রথম রক্ত দিলেন আমাদের নুর ভাই। এখন যদি আমরা নুরুল হক নুরের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ না করতে পারি, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর এই চেষ্টা প্রতিহত না করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশটাই আবার নুর ভাইয়ের মত রক্তাক্ত হয়ে যাবে।

বিএনপি নেতা প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন আজকে হাসিনা নাই কিন্তু কোথাও কোথাও হাসিনা ও ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আজকে আবারও ভিপি নুর মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হলো। সাহসী নেতা নুরের সুস্থতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি। আমিন।’

অপরদিকে নুরকে নিয়ে বিতর্কিত এক পোস্ট করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অভিনেতা-উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়।

শনিবার ভোরে এক স্ট্যাটাসে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সাক্ষাৎকার নেয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন তিনি। যেখানে জয় লেখেন, ‌‘ভিপি নুর ভাইয়ের ইন্টারভিউ নেওয়ার কথা ছিল, আউটডোরে। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে তা ক্যান্সেল হয়েছে। আপনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। এবারের ইন্টারভিউ হবে ভয়াবহ।’

জয়ের এই পোস্ট নুরের দলের সমর্থকদের মাঝে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কেউ লিখেছেন, ‘এই সময়ে ইন্টারভিউয়ের চাইতে দোয়া দরকার নুর ভাইয়ের জন্য।’ কারো মন্তব্য, ‘আপনার লেখা দেখে মনে হচ্ছে, মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাচ্ছে আসলেই।’ আবার কারো মতে, ‘সবসময় আলোচনায় থাকতেই এসব পোস্ট দেন জয়।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে মিছিল শুরু করে গণঅধিকার পরিষদ। মিছিলটি দলটির কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়। বিজয়নগর মোড় থেকে মিছিলটি কাকরাইল-নয়াপল্টন মোড়ের দিকে যেতে থাকে। জাপা কার্যালয়ের সামনে এলে মিছিলকারীদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ আহত হন। 

পরে এ ঘটনা নিয়ে মশাল মিছিল শুরু করে গণঅধিকার পরিষদ। এ সময় শতাধিক নেতাকর্মী জাপা কার্যালয়ে আগুন দিতে যান। ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় এক পুলিশ সদস্যের মাথায় ইট লেগে আহত হন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। 

এদিকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকে গণঅধিকার পরিষদ। সোয়া ৯টার দিকে নেতাকর্মীরা সম্মেলনস্থলে চলে যেতে শুরু করেন। কয়েকজন যৌথবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা কথা বলছিলেন। হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে থাকা নুরুল হক নুরসহ অন্যদের ওপর হামলা করে যৌথবাহিনীর সদস্যরা।