১২৪ কলেজ-মাদরাসায় বিটিসিএলের পাওনা আড়াই কোটি টাকা  

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুইটি ইন্টারনেট সংযোগ রাখার সিদ্ধান্ত

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুইটি ইন্টারনেট সংযোগ রাখার সিদ্ধান্ত
২০ আগষ্ট, ২০২৫ ১৯:৩৩  
২০ আগষ্ট, ২০২৫ ২৩:৩৮  

২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন ও বিল বাবদ দেশের ১২১ কারিগরি কলেজ ও তিন মাদরাসার কাছে দুই কোটি ৬১ লাখ ৬৪ হাজার ২১ টাকা পায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। টাকায় আদায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিকম প্রতিষ্ঠান। 

এরপর গত ১৮ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আইসিটি অধিশাখা এবং ১৯ আগস্ট কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের (সমন্বয়, এপিএ ও আইসিটি) শাখা-২ থেকে প্রকাশিত দুটি স্মারকে বৈঠকের বকেয়া আদায়ে ৫টি পরমার্শ দিয়েছে এ নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি।

কমিটির সদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাবে বিটিসিএল। আর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিল সরাসরি তাদের কাছেই পাঠাতে হবে। একইসঙ্গে সংযোগ সচল থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যমান হারে বিল পরিশোধ করবে। এছাড়াও এপি ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানের রাউটার বা লোকাল নেটওয়ার্কে ব্যান্ডউইথ সংযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

ঢাকা, নরসিংদী, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার ১২ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এই চার সিদ্ধান্তের বাইরে  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে দুটি ব্রডব্যান্ড সংযোগ রাখতে হবে। বিটিসিএল এর বিকল্প হিসেবে সরকারি বা বেসরকারি আরো একটি সংযোগ রাখতে হবে। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠানে কত দিন ইন্টারনেট সংযোগ সচল ছিল, তার হালনাগাদ তথ্য কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বিভাগে পাঠাতে হবে। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই বকেয়া বিল নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বকেয়া বিলের বিষয়টি যাচাই করতে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ গত বছরের ডিসেম্বরে পাঁচ সদস্যের এই কমিটি করেছিলো। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের তৎকালীন সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে গত ৭ আগস্ট বৈঠকে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তারা জানান, তাদের সংযোগ সচল থাকলে স্বল্প খরচে মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে। তবে বকেয়া বিল পরিশোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষ।

প্রসঙ্গত, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীনে বিটিসিএল ২০২০ সালে এক প্রকল্পের আওতায় ১২১টি কারিগরি ও তিনটি মাদরাসায় অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ওয়াইফাই চালুর উদ্যোগ নেয়। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ২০ এমবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সংযোগ দেওয়ার কথা ছিল।