বিটিআরসি ভবনে ভাংচুর

বিটিআরসি ভবনে ভাংচুর
১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৪০  
১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৫২  

বিটিআরসি ভবনে ভাংচুর চালানো হচ্ছে। ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল চারটার দিকে এই ভাঙচুর শুরু হয়। হামলায় বিটিআরসি’র মসজিদের কাজ ভেঙ্গে যায়। এময় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীরা নামজ পড়ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে কেউ আহত হয়েছেন বলে জানা যায়নি। 

 পূর্বঘোষিত এনইআইআর বাস্তাবায়ন হওয়ায় ‘অবৈধ’ মোবাইল ব্যবসায়ীরা এই হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিটিআরসি ভবনের বাইরে থেকে দুই রাস্তার দিক থেকে ঢিল মেরে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এসময় অর্ধশতাধিক হামলাকারীকে বিনিয়োগ বোর্ডের গলিতে দেখা গেছে। সংঘবদ্ধ ভাবে রাস্তার ওপর থেকেই বিটিআসি-তে এই হামলা চালানো হচ্ছে। 

প্রশাসনিক এলাকায় এমন হামলা হলেও সেখানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তাৎক্ষণিক কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। সূত্রমতে, মিনিট ১৫ হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে সেখান থেকে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভাঙচুরের পর বিটিআরসি ভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করলে বিটিআরসি’র কর্মকর্তা কর্মচারীরা বাইরে বেরিয়ে আসে। কাউকে কাউকে সেসময় অফিস শেষ সময়ে নিরাপদে বাড়ির পথে যেতে দেখা যায়। 

এর আগে এনইআইআর স্থগিতের দাবীতে বিটিআরসি’র বাইরে বিক্ষোভ করে মোবাইল ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভ থেকে হঠাৎ করেই কেউ কেউ বিটিআরসি ভবন লক্ষ করে ঢিল ছুঁড়ে। ‘ভাঙ্, ভাঙ’, ‘গুড়িয়ে দে’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। 

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) নীতিমালায় সংশোধনের দাবিতে গত ৭ ডিসেম্বরও বিটিআরসি’র সামনে অবরোধ করেছিলো মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি। তখন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হলেও। এবার সেখানে সহিংস হামলা চালানো হলো। বিক্ষোভকারীরা ভবন লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে, যার ফলে বিটিআরসি মসজিদের কাচ ভেঙে যায় এবং ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।এই হামলায় বিটিআরসি’র সামনের কাচের দেয়াল ভেঙ্গে গেছে। ভেঙ্গেছে নামাজ ঘর ও ট্রেনিং রুমের কাঁচও। 

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলো এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত করা যায়নি। তবে হঠাৎ এমন আক্রমণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিটিআরসির কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হঠাৎ করে ভাঙচুর শুরু হয়েছে। রাস্তা থেকে কয়েকশ বিক্ষোভকারী অবস্থান নিয়ে ভবনে ইটপাটকেল ছুড়ছে। এতে ভবনের বিভিন্ন কাচ ভেঙে গেছে। ছুটি হওয়ার পরেও আমরা কেউ বের হতে পারছিলাম না।’ 

প্রসঙ্গত, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রিত বা স্টকে থাকা মুঠোফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।