eআরকি’র ‘বিদ্রূপে বিদ্রোহ’-তে ইন্টারনেট-মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া
গণঅভ্যুত্থানের সময়ের মিম, গ্রাফিতি, কার্টুন, শ্লোগানের পোস্টার নিয়ে রাজধানীর আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হলো ‘eআরকি’র ‘বিদ্রূপে বিদ্রোহ’ শীর্ষক রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গচর্চার সাহসী প্রদর্শনী। আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতি দিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই প্রদর্শনী।
প্রদর্শনীতে বিদ্রুপের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে আঁকা ‘ইন্টারনেট একা একা বন্ধ হয়ে গেছে’ এবং হেলমেট বাহিনীর ‘আপনার মোবাইলটা একটু দেন চেক করবো’ এর মতো ব্যঙ্গ চিত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ও পথচিত্রের একটি সংরক্ষিত আর্কাইভ, প্রতিবাদী গান এবং কবিতা পাঠ।
প্রথম দিনেই (৩১ জুলাই) বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে প্রদর্শনীটি জমজমাট হয়ে ওঠে। eআরকি আয়োজিত ছয় দিনের এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয়েছে ২০২৪ সালের আন্দোলনে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ কীভাবে প্রতিবাদের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল।
রক্তাক্ত সেই জুলাইয়ের দিনগুলোতে ব্যঙ্গ হয়ে উঠেছিল প্রতিবাদের সবচেয়ে সাহসী মাধ্যমগুলোর একটি। যখন নাগরিকরা ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছিল, তখন তারা রাজনৈতিক প্রতিরোধের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করেছিল কার্টুন, মিম, দেয়ালচিত্র, ভিডিও, প্রতিবাদী গান এবং কবিতা—সৃজনশীলতার শক্তিতে আন্দোলনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। রসিকতা, বিদ্রূপ এবং অকপট সমালোচনার মাধ্যমে ব্যঙ্গ হয়ে উঠেছিল দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক সম্মিলিত আহ্বান। তারই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে এই প্রদর্শনী।‘
ব্যঙ্গ সবসময়ই বঞ্চিতদের অস্ত্র—ক্ষমতার প্রতি হাসি ছুঁড়ে দিয়ে এর অযৌক্তিকতাকে উন্মোচিত করার উপায়’—বলেছেন ইয়ার্কির একজন মুখপাত্র। আরও বলেন, ‘এই প্রদর্শনী তাদের জন্য এক শ্রদ্ধাঞ্জলি, যারা সাহস এবং বুদ্ধিদীপ্ত কৌতুকের মাধ্যমে অন্ধকার সময়েও সত্য কথা বলতে পিছপা হননি।’
এই প্রদর্শনী সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি একযোগে স্মরণ, প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক জীবনে ব্যঙ্গের চিরকালীন ভূমিকা নিয়ে আলোচনার একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠতে চায়। এমনটাই মনে করেন আয়োজন সংশ্লিষ্টরা।







