এআই, আইওটি ও ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার উদ্ভাবন নয়:  বিটিআরসি চেয়ারম্যান

দুর্যোগে প্রস্তুত নয় টেলিকম অপারেটররা

দুর্যোগে প্রস্তুত নয় টেলিকম অপারেটররা
১০ জুলাই, ২০২৫ ২০:১১  
১০ জুলাই, ২০২৫ ২৩:২২  

একমাস আগেই অংশীজনদের নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করে ‘জাতীয় জরুরি টেলিযোগাযোগ পরিকল্পনা ও সবার জন্য আগাম সতর্কতা’ বিষয়ক কর্মশালা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তিনদিনব্যাপী সেই সেমিনারে সবগুলো অপারেটরে প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সেল ব্রডকাস্ট প্রযুক্তিকে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে সতর্কতা পৌঁছে দেওয়ার তাৎক্ষণিক ও নির্ভরযোগ্য টুল হিসেবে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর হাওয়ারের বন্যাপ্রবণ এলাকা সুনামগঞ্জ সফর শেষে হাতাশা প্রকাশ করলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী। সফর শেষে তার মনে হয়েছে, বন্যাপ্রবণ এলাকায় মনোযোগ নেই মোবাইল অপারেটরদের। 

১০ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজধানীর লা-মেরিডিয়ানে গ্রামীণ ফোন ওয়ান অনুষ্ঠানে দেয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে এই আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। 

টেলিকম খাতে উদ্ভাবনের বিকল্প নেই মন্তব্য করে বিটিআরসি চেয়াম্যান বললেন, আসন্ন বন্যার প্রস্তুতি দেখতে আমি বন্যাপ্রবণ হাওয়ার এলাকায় দিয়ে দেখলাম সেখানে পাওয়ার থাকে না, ব্যাটারি ব্যাকআপ নাই, জেনারেটরের সুব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে আমাদের দরকার ব্যাপক উদ্ভাবন। ব্যবসায় মডেল, স্থানীয় পর্যায়ের সাপোর্ট ইনোভেশন। আমি ব্যাটারি লোকালি চার্জ দিতে পারছি কি না; ওখানে জেনারেটর সার্ভিস অ্যারেঞ্জ করতে পারছি কি না। জনগণকে কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতেই আমাদের এই ধরনের মৌলিক উদ্ভাবনগুলোই আমাদের প্রয়োজন। কানেক্টিভিটি দিতে হবে। সাস্টেইন করতে হবে। এরপরেই উদ্ধানী পণ্যগুলো মানুষের হাতে দিতে হবে। স্মার্টফোন মানুধের হাতে হাতে পৌঁছতে আমরা গলগঘর্ম হয়ে যাচ্ছি। 

স্মার্টফোন পেনিট্রেশন নিয়ে বলার সময় অনেক সংখ্যা বলা হলেও এর সমালোচনা করে চেয়ারম্যান জানালেন, কেবল যেই সেবা দিলে আয় হয় তা ডেভেলপ করলে হবে না। এক্ষেত্রে আমাদের উদ্ভাবন একটি জায়গায় আটকে গেছে। এক দশক আগেই আমি আপনাদের অনুরোধ করে বলেছিলোম, প্লিজ, কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রেট্রনাইজ করুন। এর মাধ্যমেই স্থানীয় ট্যালেন্টরা বিকশিত হবে। কিন্তু আপনারা তা শোনেননি। তবে এখন এগিয়ে আসছেন। এটা আশাজাগানিয়া। 

অবিলম্বে সবাইকে ‘টাগ অব ওয়্যার’ থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে যৌথ অংশীদারিত্বে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এমদাদ উল বারী। 

তিনি বলেন, আমাদের ভিউ পয়েন্ট বদলাতে হবে। টেলকোদের উচিত সার্ভিস ক্রস সেক্টর উন্নয়নে কাজ করা। পণ্য বা সেবা উন্নয়নে গ্রাহকের প্রয়োজন ও সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেয়া উচিত। এআই ও আইওটি’র ব্যবহার, কিংবা ক্লাউড কম্পিউটিং কোনো ইনোভেশন নয়। উদ্ভাবন হচ্ছে সুনির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান। খন্ড-খণ্ড নয় চলতে হবে অখণ্ড পথে। অজস্র মানুষের একক জীবনকে একটি প্লাটফর্মে আনতে হবে। 

বর্তমান মোবাইল খাতের প্রসঙ্গ তুলে ধবে বিটিআরসি বস বলেন, এখন সাড়ে ১৮ কোটি সিম গ্রাহকের হাতে আছে। কিন্তু কোনো অ্যাসেসমেন্টেই ১২ কোটির বেশি মানুষের কাছে এটি নেই। যার অর্থ- ছয়-সাড়ে ছয় মানুষের কাছে সিম নেই। আমি যদি শুধু সবালোক গ্রাহক ধরি, তাহলে সাড়ে তিন থেকে চার কোটি সংযোগের বাইরে রয়েছেন। অথচ আমরা গৌরব করে বলি আমাদের ৭৫ শতাংশ ইন্টারনেট সংযোগে যুক্ত। তবে সত্যিকারে এই সংখ্যা ৬-৭ কোটির বেশি না। অর্ধেকের বেশি মানুষ ইন্টারনেটে যুক্ত নয়। সোয়া দুই কোটির মতো বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট আছে।