ইনোভেশন ফেয়ারে উপদেষ্টার রূপরেখা

প্রযুক্তিগত পুনর্গঠনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান

  • অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও উৎপাদনশীলতায় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ
  • গবেষণা ও উদ্ভাবনে বেসরকারি অনুদানে কর ছাড়সহ বিশেষ তহবিলের আশ্বাস
  • এলডিসি উত্তরণ মোকাবেলায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের টেকসই অর্থনীতির প্রত্যয়

প্রযুক্তিগত পুনর্গঠনে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৫৩  

উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, বহুমাত্রিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিল্প রূপান্তরের মাধ্যমে একটি টেকসই, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী 'বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬'-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জাতীয় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপকল্পে তিনটি প্রধান ধাপের কথা উল্লেখ করেন: অর্থনীতির দ্রুত পুনরুদ্ধার, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত পুনর্প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুত পুনর্গঠন। তিনি জানান, ২০২৯ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা মোকাবেলায় একক পণ্যের নির্ভরতা কমিয়ে উচ্চ প্রযুক্তির বহুমুখী রপ্তানি কাঠামো তৈরি করতে হবে। আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন সূচকে (জিআইআই) দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে অব্যাহত গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক পুনর্জাগরণের বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সূচনার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী অর্থনীতি বিনির্মাণে কাজ করছে।

গবেষকদের কার্যকর প্রণোদনা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে তিনি একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ‘রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ফান্ড’ গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া

র আহ্বান জানান। বেসরকারি শিল্প খাত এ গবেষণা তহবিলে আর্থিক সহায়তা প্রদান করলে কর ছাড়সহ রাজস্ব প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনকে সামনে রেখে তরুণ উদ্ভাবকদের হাত ধরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের টেকসই জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবন আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে প্রতি বছর নিয়মিত ‘ইনোভেশন ফেয়ার’ আয়োজন করা হবে। তিনি জানান, মেলায় প্রদর্শিত উদ্ভাবনগুলো বাণিজ্যিকীকরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে এবং ওমানের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।

তিন দিনে ২০টি কারিগরি ও পলিসি সেশন শেষে ৬৭১টি আবেদন থেকে বাছাইকৃত ৫০টি উদ্ভাবনী দলের মধ্য থেকে শীর্ষ ১০টি প্রকল্পকে এক লক্ষ টাকার চেক ও সনদ দেওয়া হয়। এ প্রকল্পগুলো হলো—Homepital Nexus, SMARTWheelchair, Firefly, Voice Assist Device, BD Cyber Helpline, Water Repellent Jute Fabric, Natural Fibre PCB, Antenna for NanoSat, Liquid Tree এবং Self Contactor। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবনীতে বিশেষ সম্মাননা পায় গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বিইউবিটি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং এআইইউবি। সমাপনীতে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
//ডিবিটেক/এমএএম/এসএমই /আইএইচ//