প্রযুক্তিগত জবাবদিহিতা ও সুরক্ষার আহ্বান

সাইবার সুরক্ষা আইনে জেন্ডার সহিংসতা প্রতিকার

  • সাইবার নিরাপত্তা আইনের খসড়ায় প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এবং সম্মতির সুস্পষ্ট সংজ্ঞার দাবি
  • ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণ, অ্যালগরিদমের জবাবদিহিতা ও ভুক্তভোগীর তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিতের তাগিদ
  • অংশীজনদের মতামত না নিয়ে সাইবার আইন পাস না করার প্রত্যয় সরকারের

সাইবার সুরক্ষা আইনে জেন্ডার সহিংসতা প্রতিকার
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:১৫  

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার (টিএফজিবিভি) সুনির্দিষ্ট আইনি প্রতিকার অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। এজন্য খসড়া আইন পর্যালোচনা করে সংলাপে ২৬টি সুপারিশ তুলে ধরে ডিআই। প্রধান সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—টিএফজিবিভি ও সম্মতির স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ, প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি, ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণসহ কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা।

রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক নীতি সংলাপে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এ দাবি জানান। ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বুধবার): ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) উদ্যোগে ও ঢাকা মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরামের (এমএএফ) আয়োজনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে পরিচালিত ‘বি-স্পেস’ প্রকল্পের আওতায় সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আইনটি যুগোপযোগী করতে সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে এবং সব অংশীজনের মতামত না নিয়ে খসড়াটি পাস করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সাইবার স্পেসে নারীরা নিরাপদে থাকবেন এবং সব নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।" ডিআইয়ের অধিকাংশ সুপারিশের সঙ্গে একমত পোষণ করে তিনি এগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচকরা সতর্ক করেন, অ্যালগরিদম ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দিলেও বিদ্যমান আইনে প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট কাঠামো নেই। এছাড়া অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে মানহানি ও ভুল তথ্যসংক্রান্ত ধারার অপপ্রয়োগ ঠেকাতে কঠোর সুরক্ষাকবচ রাখার পরামর্শ দেন তারা।

সংলাপে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, নাদিয়া পাঠান পাপন, সুলতানা জেসমিন জুঁই ও মারজিয়া বেগম; আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস. এম. আরশাদুল আলম, সিআইডি সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম, ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির পরিচালক (অপারেশন) মো. হোসাইন বিন আমিন এবং বিটিআরসির উপপরিচালক এসএম তাইফুর রহমান।

এতে আরও আলোচনা করেন ইউএনএফপিএ-র আবু সাঈদ সুমন, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের ফাওজিয়া আফরোজ, ব্লাস্ট ও সিএসডব্লিউসি প্ল্যাটফর্মের অ্যাডভাইজার ব্যারিস্টার প্রিয়া আহসান চৌধুরী, ডিজিটালি রাইটসের আব্দুল্লাহ তিতির, সাংবাদিক শাহনাজ শারমীন, এনসিপির হুমায়রা নূর ও আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, এমএএফের সাইদুর রহমান মিন্টু এবং ঢাবি ছাত্রদলের চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিআই-এর সিনিয়র ডিরেক্টর লিপিকা বিশ্বাস; বক্তব্য দেন চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান এবং সুপারিশ উপস্থাপন করেন আরাফাত বিল্লাহ খান ও ইনজামুল হক রামীম।

 //ডিবিটেক/সিএনই/এসআমইসএসএমই//