ক্যানভা দিয়ে ফ্রিতে ছবি সম্পাদনা
ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির যুগে ছবি সম্পাদনা আর পেশাদারদের কাজে সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইনে সহজ টুলস আসায় এখন যেকোনো ব্যবহারকারী খুব সহজেই নিজের ছবি প্রফেশনালভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন। এমনই এক জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ক্যানভা, যেখানে ব্যাকগ্রাউন্ড মুছে ফেলা, নতুন ব্যাকগ্রাউন্ড যোগ করা কিংবা ছোটখাটো এডিটের মতো কাজগুলো করা যায় একেবারে বিনামূল্যে।
ইন্টারফেসের সরল নকশা এবং অনলাইন কাজের সুবিধার কারণে ক্যানভা এখন ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে ছোট উদ্যোক্তাদের কাছেও সমান জনপ্রিয়। প্ল্যাটফর্মটিতে লগইন করলেই পাওয়া যায় একটি পরিচ্ছন্ন ড্যাশবোর্ড, যেখানে ব্যবহারকারী নিজস্ব সাইজে ডিজাইন তৈরি করতে পারেন কিংবা পূর্বনির্ধারিত টেমপ্লেট ব্যবহার করে শুরু করতে পারেন। ছবি সম্পাদনার জন্য প্রথমে প্রয়োজনীয় ছবিটি আপলোড করতে হবে ‘আপলোডস’ সেকশনে। এরপর ব্যবহারকারী ছবিটি ক্যানভাসে এনে প্রয়োজনমতো কাজ শুরু করতে পারেন।
ফটো এডিটিংয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ফিচারের একটি ব্যাকগ্রাউন্ড অপসারণ। যদিও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভার ক্যানভার প্রো সংস্করণে পাওয়া যায়, তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে ‘ম্যাজিক ইরেজার’- একটি কার্যকর ফ্রি টুলস, যার সাহায্যে ছবির অবাঞ্ছিত অংশ খুব সহজেই মুছে ফেলা যায়। ছবির যে অংশটি সরাতে চান, সেখানে ব্রাশ চালালেই ব্যাকগ্রাউন্ড মিলিয়ে যায়। আর পুরো ছবির পেছনের অংশটাই আলাদা করতে চাইলে অনেক ব্যবহারকারী আগে রিমুভ ডটবিজি’র মতো ফ্রি সার্ভিসে ব্যাকগ্রাউন্ড কেটে এনে পরে ক্যানভায় সেট করেন।
ব্যাকগ্রাউন্ড বদলানোও ক্যানভায় বেশ সহজ। স্বচ্ছ (পিএনজি) কাটআউট ছবিটি ক্যানভাসে আনার পর বাম পাশের ফটোজ সেকশন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বেছে নেওয়া যায়। স্টুডিও সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে সমুদ্রতট বা অফিস রুম, বিভিন্ন ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার করে ছবির পুরো পরিবেশই বদলে ফেলা যায় মুহূর্তে। প্রয়োজন হলে এডিট ফটোর নিচে থাকা অ্যাডজাস্ট অপশন দিয়ে উজ্জ্বলতা, রঙ বা কনট্রাস্ট ঠিক করে ছবিকে আরও স্বাভাবিকভাবে পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া যায়।
ছোটখাটো সম্পাদনার কাজেও ক্যানভা কার্যকর। ছবির নির্দিষ্ট অংশ কাটতে ‘ক্রপ’, রঙ উজ্জ্বল করতে ‘অটো এনহেন্স’, কিংবা বাস্তবসম্মত ছায়া যুক্ত করতে এলিমেন্টসের ‘শ্যাডো’ গ্রাফিক ব্যবহার করা যায়। এসব টুল বিনামূল্যেই ব্যবহার করা যায় এবং ছবির সৌন্দর্যে বড় পার্থক্য এনে দেয়।
সবশেষে কাজ শেষ হলে উপরের ‘শেয়ার’ বাটনে ক্লিক করে পিএনজি বা জেপিজি ফরম্যাটে ছবিটি ডাউনলোড করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে শুরু করে পণ্য প্রচারণা, সব ক্ষেত্রেই এই সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করার সুবিধা দেয় প্ল্যাটফর্মটি।
সহজ ব্যবহারযোগ্যতা, নান্দনিক আউটপুট এবং ফ্রি ফিচারের প্রাচুর্যের কারণে ক্যানভা এখন ছবি সম্পাদনায় নতুনদের অন্যতম ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির এই যুগে প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের হাতেও এনে দিয়েছে পেশাদার মানের কাজ করার সুযোগ।
ডিবিটেক/বিএমটি







