লিগ্যাল এইডের শর্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকার পরামর্শ; অভিভাবকত্বে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি

টিকটক ইস্যুতে সতর্কবার্তা, শিশুকে ফিরে পেল কিশোরী মা

  • ফেসবুক-টিকটক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ
  • সাত মাসের শিশু আপাতত থাকবে কিশোরী মায়ের কাছে
  • স্থায়ী অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করবে পারিবারিক আদালত

টিকটক ইস্যুতে সতর্কবার্তা, শিশুকে ফিরে পেল কিশোরী মা
৪ আগষ্ট, ২০২৬ ২০:৩০  

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ও অনলাইন নিরাপত্তার প্রশ্নে আলোচিত হাজারীবাগের ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা শর্তসাপেক্ষে তার সাত মাস বয়সী ছেলেসন্তানকে আপাতত নিজের কাছে রাখার অনুমতি পেয়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড তাকে ফেসবুক, টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে ৪ আগস্ট, মঙ্গলবার শিশুটির অভিভাবকত্ব বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ মো. সায়েম খান জানান, বিদ্যমান আইন এবং শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় আপাতত সাত মাস বয়সী শিশুটি তার মায়ের কাছেই থাকবে। তবে শুনানিতে কিশোরী মাকে ফেসবুক ও টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

লিগ্যাল এইড সূত্র জানায়, শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব চেয়ে তার বাবা যে আবেদন করেছেন, তা বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন। ফলে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব কার কাছে থাকবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত।

আলোচিত এ ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, টিকটকের মাধ্যমে ১৩ বছর বয়সী কিশোরীর সঙ্গে ২২ বছর বয়সী মো. শাকিল মিয়ার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে এবং অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরীকে ফুসলিয়ে নোটারির মাধ্যমে বিয়ে করেন শাকিল। পরবর্তীতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেয়। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর ৪ মাস।

এরপর অভিযোগ ওঠে, শাকিল মিয়ার পরিবার শিশুটিকে নিজেদের কাছে রেখে কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে গত ২০ মে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন তিনি।

পরবর্তীতে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড শিশুর নিরাপত্তা, কল্যাণ ও অভিভাবকত্বের বিষয় বিবেচনায় শুনানির আয়োজন করে। আপাতত শিশুটি মায়ের কাছে থাকলেও স্থায়ী অভিভাবকত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতই দেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা আবারও দেখিয়েছে—অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, বিশেষ করে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে অনলাইন পরিচয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অভিভাবকীয় নজরদারির বিষয়গুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

//ডিবিটেক/ বিটিএন/ এমআইএস//