আইসিসিবিতে সিকিউরিটি ও সেফটি এক্সপো: 

আইসিসিবিতে সিকিউরিটি ও সেফটি এক্সপো: ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বারোপ

আইসিসিবিতে সিকিউরিটি ও সেফটি এক্সপো: ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিশেষজ্ঞদের গুরুত্বারোপ
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১৩  

নিরাপত্তা ও সুরক্ষাবিষয়ক দেশীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক মেলবন্ধন ঘটাতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলছে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো বাংলাদেশ এবং ইন্টারন্যাশনাল অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো বাংলাদেশ ২০২৬’। প্রযুক্তি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেড এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীর আয়োজন ১৯ সেপ্টেম্বর, শনিবার পর্যন্ত চলবে।

আয়োজনের প্রথম দিন বিকেল ৩টায় আইসিসিবির নবরাত্রি হলে ‘বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা জোরদার: চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তি ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল জাকির উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ আলোচনায় বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা মূল্যবান বক্তব্য দেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের ফ্যাকাল্টি সদস্য এ কে এম মাসুম উল আলম কর্মক্ষেত্রে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের পাশাপাশি কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ খান, পিএসসি (অব.) কর্মক্ষেত্র ও স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অগ্নিনিরাপত্তার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতি ও সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে কর্মক্ষেত্র ও স্থাপনায় দুর্ঘটনা এবং ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নিরাপদ অবকাঠামোর বিষয়ে আলোকপাত করেন সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি স্থপতি মো. ইকবাল হাবিব। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণ ও নগরপরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে জননিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বেসিসের সাবেক সভাপতি ও মেট্রোনেট বাংলাদেশের সিইও সৈয়দ আলমাস কবির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান, স্মার্ট মনিটরিং ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ব্যবহার বাড়াতে হবে এবং প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দক্ষ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সংস্থাসমূহের মধ্যকার আন্তঃসমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, স্থপতি, প্রকৌশলী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

দুর্ঘটনা পরবর্তী ব্যবস্থার চেয়ে পূর্বপ্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে সেফটি ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি রেসপন্স স্পেশালিস্ট ফয়সাল আহমেদ বলেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই ঝুঁকি চিহ্নিত ও প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নে জোর দিতে হবে।

//ডিবিটেক/ইউজিবি/এসএমই//