১০ দেশের ১৫০ ব্র্যান্ডের প্রযুক্তি প্রদর্শন; সেমিনারে জোর দেওয়া হলো সমন্বিত ইলেকট্রনিক নিরাপত্তার ওপর 

রাজধানীতে আন্তর্জাতিক সিকিউরিটি ও সেফটি এক্সপো: নজর কাড়ছে সোলার ক্যামেরা

  • আইসিসিবিতে চলছে তিন দিনব্যাপী 'ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো' এবং 'ইন্টারন্যাশনাল অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো বাংলাদেশ ২০২৬'
  • ১০টি দেশের ১৫০টি ব্র্যান্ডের সর্বাধুনিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ সমাধান নিয়ে অংশ নিয়েছে ৪৭টি প্রতিষ্ঠান
  • সোলার বেজড সিসি ক্যামেরা, স্মার্ট বায়োমেট্রিক এবং বুয়েট শিক্ষার্থীদের তৈরি এআই চালিত 'ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্ট'-এ দর্শনার্থীদের আ

রাজধানীতে আন্তর্জাতিক সিকিউরিটি ও সেফটি এক্সপো: নজর কাড়ছে সোলার ক্যামেরা
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:০৮  

বিদ্যুতের ওপর চাপ কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সোলার বেজড সিকিউরিটি ক্যামেরা ও আধুনিক নিরাপত্তা অ্যাপ্লিকেশনের পসরা নিয়ে দ্বিতীয় দিন পার করেছে তিন দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এক্সপো’। একই প্রাঙ্গণে যৌথভাবে চলছে ‘ইন্টারন্যাশনাল অকুপেশনাল সেফটি, হেলথ অ্যান্ড ফায়ার এক্সপো বাংলাদেশ ২০২৬’। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরত্ন হলে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ চীন, দুবাই, কোরিয়া, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, ভারত, ইউকে এবং অস্ট্রেলিয়া—এই ১০টি দেশের ১৫০টি ব্র্যান্ডের পণ্য ও প্রযুক্তি সল্যুশন তুলে ধরছে ৪৭টি প্রতিষ্ঠান। আইসিসি টিসিএল, কম্পিউটার সিটি, স্মার্ট টেকনোলজিস, টিপসই, জাইকো, জেড সিডনি সান ইন্টারন্যাশনাল, অ্যাকোট, ডাহুয়া এবং হিকভিশনের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মস্থলের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি এবং অগ্নিনির্বাপণের নিত্যনতুন প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।

প্রদর্শনী ও উদ্ভাবন:

  • পণ্য ও প্রযুক্তি আকর্ষণ: আইসিসি টিসিএল-এর স্টলে পিটিজি ও সোলার বেজড সিসি ক্যামেরা, ইনডোর-আউটডোর ক্যামেরা, বায়োমেট্রিক ডিভাইস, ফেস রিকগনিশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম উপস্থিতি ট্র্যাকিং এবং শিশুদের নিরাপত্তা ডিভাইস দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। স্মার্ট টেকনোলজিস প্রায় ১২টি স্টল নিয়ে সিকিউরিটি সল্যুশন সাজিয়েছে।

  • বিশেষ উদ্ভাবন: ডাহুয়া ও হিকভিশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একদল তরুণ শিক্ষার্থীর তৈরি এআই (AI) অটোমেশন চালিত 'ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্ট ও এইচআর সল্যুশন' ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

মেলার সমন্বিত আয়োজক প্রতিষ্ঠান আই-স্টেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মধু সুদন সাহা জানান, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে এবার সোলার বেজড সিকিউরিটি সল্যুশনে প্রদর্শক ও দর্শনার্থী উভয় পক্ষেরই সর্বোচ্চ সাড়া পাওয়া গেছে।

এদিকে মেলার উদ্বোধনী দিনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুইট সেমিনার হয়েছে। প্রথমে ‘বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা জোরদার: চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তি ও করণীয়’ নিয়ে এব পরের সেমিনারটি হয়েছে নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে অক্যুপেশনাল সেফটি, অগ্নি নির্বাপন এবং জারুরী সতর্কতা নিয়ে। 

সেফটি অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল জাকির উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা জোরদার: চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তি ও করণীয় সেমিনারে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. রাকিন হায়দার, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ, অ্যাকোটে গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা এডওয়ার্ড কিম এবং ইনোভেস টেকনোলজিসের (টিপসই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিরুল আলম।

বিসিএস মহাসচিব মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে ইলেকট্রনিক নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাত এবং নিরাপত্তা শিল্পের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং ও উন্নত কম্পিউটিং প্রযুক্তির আলোকে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেন বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক ড. চৌধুরী মো. রাকিন হায়দার।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. খলিলুর রহমান প্রযুক্তি গবেষণা ও উদ্ভাবনের অভিজ্ঞতার আলোকে স্মার্ট প্রযুক্তি, রোবোটিকস ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রয়োগের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ।

অ্যাকোটে গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠাতা এডওয়ার্ড কিম আধুনিক ইলেকট্রনিক ও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি, স্মার্ট নজরদারি, তথ্যনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং সাইবার নিরাপত্তার সমন্বিত ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু প্রচলিত নজরদারি বা শারীরিক নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

ইনোভেস টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিরুল আলম আইওটি, স্মার্ট বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা সমাধানের বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্মার্ট প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় সমাধানের ব্যবহার আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

প্রদর্শনীতে আগত দর্শনার্থীরা সর্বশেষ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সরাসরি দেখার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সেফটি খাতের পরিবর্তনশীল প্রবণতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও নিরাপদ, সুরক্ষিত ও ঝুঁকিমুক্ত কর্মপরিবেশ এবং জীবনযাপন নিশ্চিত করতে পারে, সে সম্পর্কেও বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাবেন।
//ডিবিটেক/ইউজিবিএস/এসএমই/এমআইএস//