সমন্বিত যোগাযোগে আধুনিক গণপরিবহন নিশ্চিতের আহ্বান
মেট্রোরেল নির্ভরতায় বাড়ছে ঋণঝুঁকি, উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার দাবি
- অতিরিক্ত ব্যয়ের মেট্রোরেল নির্ভরতা কমিয়ে বাস, রেল ও বিআরটিতে সমন্বিত বিনিয়োগের তাগিদ
- এমআরটি প্রকল্পে কিলোমিটার প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় পর্যালোচনার দাবি
- গণপরিবহন আধুনিকায়নে বিশ্বব্যাপী উন্মুক্ত দরপত্র এবং তৃতীয় পক্ষের স্বাধীন ব্যয় যাচাইয়ের প্রস্তাব
ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় কেবল ব্যয়বহুল প্রযুক্তিনির্ভর মেট্রোরেলকে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা না করে সমন্বিত আধুনিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, উন্নত বাস রুট, বিআরটি এবং উচ্চগতির কমিউটার রেলব্যবস্থায় টেকসই বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (শুক্রবার): 'মেট্রোরেলের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিকল্পনায় ন্যায্যতা' শীর্ষক আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা এ দাবি জানান। সংগঠনটি মেট্রোরেল অবকাঠামো নির্মাণে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিপুল বৈদেশিক ঋণের বোঝা কমাতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, তথ্য প্রকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেয়।
মূল প্রবন্ধে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, মেট্রোরেলের প্রতি একপেশে আগ্রহ এবং অতিরিক্ত ব্যয় ঢাকাকে একক মাধ্যমনির্ভর পরিকল্পনার মধ্যে আটকে ফেলছে। ২০০৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় বাস, বিআরটি ও পথচারীবান্ধব সুবিধার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৩টি মেট্রোরেলে ৬০ কিলোমিটার প্রস্তাব থাকলেও সংশোধিত পরিকল্পনায় ৬টি মেট্রোরেলে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইপিডি জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে এমআরটি-৫ দক্ষিণ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে জাইকার অর্থায়নে এমআরটি-১-এ প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৩ হাজার ৬৬১ কোটি এবং এমআরটি-৫ উত্তর প্রকল্পে প্রায় ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকার প্রাক্কলন রয়েছে। এই ব্যাপক ব্যবধান উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
পরিবহন পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞ মুনতাসীর মামুন বলেন, সামগ্রিক যাতায়াতের তুলনায় মেট্রোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ যাত্রীর জন্য বাস ও রেলব্যবস্থার দ্রুত আধুনিকায়ন জরুরি। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম অনুমোদিত ব্যয় যৌক্তিক কি না তা স্বাধীনভাবে যাচাই এবং প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের আহ্বান জানান। আইপিডির রিসার্চ ফেলো কে এম আসিফ ইকবাল আকাশ বারবার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দেন।
বক্তারা কমলাপুর-বিমানবন্দর-জয়দেবপুর রুটে দ্রুতগতির কমিউটার ট্রেন চালু এবং ঢাকার বাসগুলোকে ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোর আওতায় এনে প্রধান সড়কে ডেডিকেটেড বাস লেন চালুর পরামর্শ দেন। মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর সঙ্গে ফুটপাত, সাইকেল লেন ও পথচারী সংযোগ স্থাপন এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে একক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি যেকোনো মেগা প্রকল্পের ২০ থেকে ৩০ বছরের জীবনচক্র ব্যয় প্রকাশের জোর দাবি জানানো হয়।
//ডিবিটেক/বিএমও/এমআইএস//





