ওয়েবিনার দিয়ে শুরু সিটিসি গ্র্যান্টস ২০২৬ আবেদন

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সৃজনশীল পেশাজীবীদের যৌথ উদ্যোগে অনুদান দিতে ‘কানেকশনস থ্রু কালচার (সিটিসি) গ্র্যান্টস ২০২৬’-এর আবেদন আহ্বান করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে চারটি তথ্যভিত্তিক ওয়েবিনারের আয়োজন করা হবে।

ওয়েবিনার দিয়ে শুরু সিটিসি গ্র্যান্টস ২০২৬ আবেদন
১৭ জুন, ২০২৬ ২০:৫৭  

আবেদনকারীদের প্রস্তুত করতে ধারাবাহিক চারটি তথ্যভিত্তিক ওয়েবিনারের আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে ‘কানেকশনস থ্রু কালচার (সিটিসি) গ্র্যান্টস ২০২৬’-এর আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের শিল্পী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সৃজনশীল পেশাজীবীদের মধ্যে যৌথ উদ্যোগ, আন্তসাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, ২০২৬ সালের অনুদান কর্মসূচির শর্তাবলি, আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক আবেদন তৈরির কৌশল তুলে ধরতে চারটি বিশেষ ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহীদের নিবন্ধনের মাধ্যমে এসব সেশনে অংশ নিতে হবে।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, “আন্তসাংস্কৃতিক বিনিময়ের ফলে শক্তিশালী ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রভাবের প্রতি গভীর বিশ্বাস থেকেই ব্রিটিশ কাউন্সিল তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। ‘কানেকশনস থ্রু কালচার’ গ্র্যান্টস শিল্পী ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের একসঙ্গে কাজ করার এবং নতুন কিছু তৈরি করার সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের শিল্প ও সংস্কৃতি খাতের মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থবহ সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।”

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘কানেকশনস থ্রু কালচার (সিটিসি) গ্র্যান্টস’ বিশ্বের ৩৫টি অংশগ্রহণকারী দেশের সৃজনশীল খাতের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ সৃজনশীল উদ্যোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সিড ফান্ড অনুদান প্রদান করে।

গত বছর এ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের ১৯টি দেশে ১২৭টি প্রকল্প অনুদান পেয়েছিল। এর মধ্যে বাংলাদেশের সাতটি প্রকল্প ছিল।

২০২৬ সালের এ কর্মসূচিতে সৃজনশীল পেশাজীবী, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী, ক্রিয়েটিভ হাব, বিভিন্ন উৎসব, বিয়েনাল এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন আবেদন করতে পারবে। আবেদনকারী প্রকল্পে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অন্তত একজন অংশীদার এবং বাংলাদেশসহ অংশগ্রহণকারী কোনো দেশে আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত একটি অংশীদার প্রতিষ্ঠান থাকতে হবে।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, জেনারেল ওয়েবিনার সেশন অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জুন ২০২৬ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা এবং রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। এসব অধিবেশনে ব্রিটিশ ইশারা ভাষার (বিএসএল) সুবিধা থাকবে।

এ ছাড়া ১ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আয়োজিত বিশেষ সেশনে ভিজ্যুয়াল আর্টস, স্থাপত্য, ডিজাইন, ফ্যাশন, কারুশিল্পভিত্তিক উৎসব এবং বিয়েনাল নিয়ে আলোচনা হবে। একই দিন রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আরেকটি সেশনে ডিজিটাল আর্টস, এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি (এক্সআর), ইমারসিভ এক্সপেরিয়েন্স, গেমিং এবং সৃজনশীল শিল্পখাতের নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সৃজনশীল উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আবেদনকারীরা এ কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ২৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যৌথভাবে বাস্তবায়িত প্রকল্প, রেসিডেন্সি, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রদর্শনী, পরিবেশনা, জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ভিত্তিক উদ্যোগগুলো এ অনুদানের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালের আবেদন টুলকিট, নমুনা আবেদনপত্র এবং বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি (এফএকিউ) ব্রিটিশ কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হয়েছে। সিটিসি গ্র্যান্টস ২০২৬-এর জন্য আবেদনের শেষ সময় আগামী ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৫৯ মিনিট। 

//ডিবিটেক/এমআর/ইকে//