আইইবি প্রতিযোগিতায় সেরা ব্র্যাকইউর ‘ডুবোমিনি’

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন ২০২৬-এ সেরা প্রকল্পের পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রোবোটিকস দল ব্র্যাকইউ ডুবুরির স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান ‘ডুবোমিনি’। পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তি বিচারকদের মুগ্ধ করেছে।

আইইবি প্রতিযোগিতায় সেরা ব্র্যাকইউর ‘ডুবোমিনি’
১৭ জুন, ২০২৬ ২০:১৪  

পানির নিচের অজানা জগত অন্বেষণে তৈরি এক ক্ষুদ্র রোবটচালিত ডুবোযান এনে দিল বড় স্বীকৃতি। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের রোবোটিকস দল ‘ব্র্যাকইউ ডুবুরি’র উদ্ভাবিত স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান ‘ডুবোমিনি’ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) আয়োজিত প্রজেক্ট শোকেসিং কম্পিটিশন ২০২৬-এ সেরা প্রকল্পের পুরস্কার অর্জন করেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর রমনায় আইইবি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করেন। প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের গবেষণা, নকশা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় এই প্রতিযোগিতার।

প্রতিযোগিতায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিত্ব করে ব্র্যাকইউ ডুবুরি দল। ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের উন্নত গবেষণা এবং বাস্তব জীবনে ব্যবহারযোগ্য ডুবো রোবট তৈরিতে সহায়তা করে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয়েছে ‘ডুবোমিনি’, যা পানির নিচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম একটি আধুনিক ডুবোযান।

ছোট আকারের এই রোবটচালিত ডুবোযান একজন দক্ষ সাঁতারুর মতো পানির নিচে বিভিন্ন দিকে চলাচল করতে এবং ঘুরতে পারে। সংকীর্ণ স্থানেও সহজে চলাচলের সক্ষমতা থাকায় এটি নির্ভুলভাবে নানা ধরনের কাজ সম্পন্ন করতে পারে।

ডুবোমিনি পরিচালিত হয় ব্যাটারিচালিত একটি স্মার্ট পাওয়ার সিস্টেমের মাধ্যমে। এতে মোটর ও অনবোর্ড কম্পিউটারের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে কোনো একটি অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও অন্য অংশের কার্যক্রম সচল থাকে, যা ডুবোযানটির নির্ভরযোগ্যতা বাড়িয়েছে।

ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরের সাহায্যে এটি পানির গভীরতা, চলার দিক এবং আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। এর নিজস্ব সফটওয়্যার পরিবেশ বিশ্লেষণ করে বাধা ও নির্দিষ্ট বস্তু শনাক্ত করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপও নিজেই নির্ধারণ করতে পারে ডুবোমিনি। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এর কার্যপ্রণালি অনেকটা স্বয়ংচালিত গাড়ির মতো, যা চারপাশের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়।

এই সক্ষমতার কারণে ডুবোমিনি পানির নিচে গেট অতিক্রম, প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে চলা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার মতো জটিল কাজ প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারে। ভবিষ্যতে গবেষণা, সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ, অবকাঠামো পরিদর্শন এবং উদ্ধার অভিযানের মতো ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, এ অর্জন জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে তাদের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে মানসম্মত শিক্ষা (এসডিজি-৪), শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো (এসডিজি-৯) এবং লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব (এসডিজি-১৭) বাস্তবায়নের সঙ্গে এই উদ্যোগ সরাসরি সম্পর্কিত।

ডুবোমিনির এই সাফল্য শুধু একটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জয়ের ঘটনা নয়; বরং দেশের তরুণ প্রকৌশলীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়নের সম্ভাবনারও একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

//ডিবিটেক/এফএসবি/এমআই//