এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সুপারিশ জাতিসংঘের
দেশের প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিকম ও প্রকৌশল খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই রূপান্তরের লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর ইতিবাচক সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (CDP)। কমিটির চেয়ার প্রফেসর হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, এই বর্ধিত সময়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মতো অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিতে হবে।
২ জুন, মঙ্গলবার ঢাকায় প্রাপ্ত জাতিসংঘের এক চিঠিতে এই তথ্য জানা গেছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকার এবং পরবর্তীতে ৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান। মূলত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় আইটি ও প্রকৌশল খাতের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রযুক্তি খাতের শুল্কমুক্ত সুবিধা আরও কিছুদিন বজায় রাখতেই এই আবেদন করা হয়েছিল।
জাতিসংঘের কমিটি তাদের মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই প্রয়োজনীয় লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে পার করেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ চেইনের অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের প্রযুক্তি ও শিল্প খাত যাতে বড় ধাক্কা না খায়, সেজন্য এই অতিরিক্ত সময় দেওয়া সমীচীন। এই সময়ে বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, সফটওয়্যার রপ্তানি ও প্রকৌশল খাতের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (ISMs) ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বাড়তি সুবিধা পাবে।
কমিটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই সময় বৃদ্ধির উদ্দেশ্য সংস্কার বিলম্বিত করা নয়; বরং দেশীয় আইটি, ম্যানুফ্যাকচারিং ও প্রকৌশল খাতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের গতিকে ত্বরান্বিত করা। বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘের এই পজিটিভ মূল্যায়নকে স্বাগত জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ ২০২৯ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও সফল এলডিসি উত্তরণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।
/ডিবিটেক/পিএম/ এমইউআইএম/



