গ্রাহকদের তীব্র বিক্ষোভে ইসলামী ব্যাংকের ভার্চুয়াল বোর্ড সভা স্থগিত
১ জুন মতিঝিলে গ্রাহকদের বিক্ষোভ ও পুলিশের টিয়ারশেলের মুখে ইসলামী ব্যাংকের অনলাইন বোর্ড মিটিং স্থগিত করা হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ দাবি আন্দোলনকারীদের।
ঈদের লম্বা ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মতিঝিলের ব্যাংকপাড়া। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ ও ‘ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদ’-এর ব্যানারে শত শত গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের তীব্র আন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত ১ জুন, সোমবারের নির্ধারিত বোর্ড মিটিং স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এদিন বিকেল ৪টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসেনকে চাপ দিয়ে ভার্চুয়ালি বোর্ড সভা করানোর চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীরা একে ২০১৭ সালে গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেলে বলপূর্বক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইতিহাসের কালো অধ্যায়ের সঙ্গে তুলনা করেন। পরে গ্রাহকদের বিক্ষোভের মুখে পরিস্থিতি বিবেচনায় অনলাইনে বোর্ড মিটিং স্থগিত করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইসিটির আধুনিক যুগে যেখানে ভার্চুয়াল বৈঠক অত্যন্ত সহজ, সেখানে গ্রাহকদের আন্দোলনের মুখে কার্যালয় বা অনলাইনে কোনোভাবেই এই পর্ষদ বৈঠক করা সম্ভব হয়নি বলে স্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেন। ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অভিযোগ, বোর্ড মিটিং করার জন্য এক রকমের প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং ভার্চুয়ালি সভার জন্য নতুন চেয়ারম্যানের বাসায় আইটি বিভাগের একটি বিশেষ দলও পাঠানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মে সরকারের হস্তক্ষেপে সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগে বাধ্য হন এবং এমডি ওমর ফারুক খানকে ছুটিতে পাঠানো হয়। একই দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাবেক বিতর্কিত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়, যাকে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ ‘এস আলম’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হওয়া এমন একজন ব্যক্তির নিয়োগে ব্যাংকটি চরম আস্থার সংকটে পড়বে বলে গ্রাহকদের আশঙ্কা।
সোমবার সকালে নতুন চেয়ারম্যানের প্রথম কর্মদিবসে যোগদানের কথা থাকলেও রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সকাল থেকেই অবস্থান নেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা। আন্দোলনকারীরা নতুন চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বর্তমান গভর্নরেরও পদত্যাগ দাবি করেন এবং এস আলমের সমস্ত সম্পত্তি জব্দ করে সেই অর্থ ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।
সূত্রমতে, মানববন্ধনে পুলিশের আকস্মিক লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ফলে গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক গ্রাহক আহত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক অভিযোগ করেন, বিধিবহির্ভূত এই নিয়োগ বাতিল করে প্রকৃত মালিকদের নিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন করা জরুরি। বর্তমানে ব্যাংকের তীব্র তারল্য সংকটের কারণে সাধারণ গ্রাহকেরা চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারছেন না এবং এটিএম বুথগুলোতেও নগদ অর্থ মিলছে না, যা দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং ও তারুণ্যের উদ্যোক্তা খাতের আর্থিক সুরক্ষাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
/ডিবিটেক/ এমআই/ ইকে/



