ডেঙ্গুর চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালে ৮০% পর্যন্ত ছাড়ের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

২ জুন সচিবালয়ে ডেঙ্গু বিষয়ক সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী শনিবার থেকে শুরু হবে দেশব্যাপী সচেতনতা অভিযান।

ডেঙ্গুর চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালে ৮০% পর্যন্ত ছাড়ের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
২ জুন, ২০২৬ ১২:২৫  

ডেঙ্গু আক্রান্ত সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত। তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন রোগনির্ণয় পরীক্ষার (ডায়াগনস্টিক) খরচে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। 

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও গাইডলাইন বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু রোগীদের আর্থিক চাপ কমাতে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, কোনো রোগীর পরীক্ষার খরচ ১০ হাজার টাকা হলে, সেখানে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার বিষয়টি জোরালো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে হেমোরেজিক ডেঙ্গুসহ অন্যান্য জটিল রোগীদের চিকিৎসার খরচ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত দেশে অল্প কয়েকজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় রাখা। তবে আগাম পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয় বলে প্রতিদিনের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।এবারের ডেঙ্গু মৌসুমে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও নজরদারিতে আইসিটির ব্যবহার এবং সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ভার্চ্যুয়াল বৈঠক চলছে এবং দ্রুতই উপজেলা পর্যায়েও এই সমন্বয় সভা করা হবে।

পাশাপাশি চিকিৎসকদের আধুনিক গাইডলাইনভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ‘ডেথ রিভিউ’ নিয়মিত করার কথা থাকলেও তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, এবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়মিত তথ্য বিশ্লেষণের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মশা নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের কার্যকারিতা ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত করা হলেও মাঠপর্যায়ে স্প্রে কার্যক্রমে কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যা কঠোর তদারকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধকে একটি সামাজিক লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী শনিবার থেকে দেশব্যাপী বিশেষ সচেতনতামূলক মেগা কর্মসূচি শুরু হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা শহরে একযোগে র‍্যালি, মাইকিং, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি সভা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগামী তিন মাস দেশব্যাপী এই সচেতনতামূলক আন্দোলন চলমান থাকবে। উক্ত সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী, স্বাস্থ্যসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/ডিবিটেক/ডিপিও/এমইউআই/