ফেসবুক লাইভে হাতে কলমে ১০ কোটি টাকার হিসাব দিলেন: হাসনাত আব্দুল্লাহ

৩১ মে মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে এসে দেবীদ্বারের ১৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার হিসাব দিলেন এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

ফেসবুক লাইভে হাতে কলমে ১০ কোটি টাকার হিসাব দিলেন: হাসনাত আব্দুল্লাহ
১ জুন, ২০২৬ ০০:১৭  

দেশের আইসিটি অবকাঠামো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের ফলে রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। গত ৩০ মে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের এক বিস্ফোরক বক্তব্যের জবাবে ডিজিটাল হোয়াইট বোর্ডে লাইভ হিসাব দিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্মে সাড়া ফেলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। 

৩১ মে দিবাগত মধ্যরাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দীর্ঘ ৪৩ মিনিটের এক লাইভ ভিডিওতে দেবীদ্বার এলাকার ১০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে হাতেকলমে নিখুঁত হিসাব তুলে ধরেন তরুণ এই প্রকৌশল ও প্রযুক্তিপ্রেমী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এই লাইভটি মূলত বাংলাদেশের তরুণ রাজনীতিবিদদের প্রাঞ্জল ডিজিটাল লিটারেসি এবং তথ্যের অবাধ উন্মুক্তকরণের এক দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

উপাত্তভিত্তিক সেই লাইভ সেশনে তরুণ এই জননেতা সাফ জানিয়ে দেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেবীদ্বার এলাকায় এডিপি সাধারণ, এডিপি বিশেষ এবং রাজস্ব নিজস্বসহ সব মিলিয়ে মোট ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার প্রজেক্ট দেওয়া হয়েছে, যা নির্দিষ্ট ১৪৮টি প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ডিজিটাল হোয়াইট বোর্ডে হিসাব কষে তিনি দেখান যে, এখানে এক টাকা কমও না এবং এক টাকা বেশিও না। অথচ কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া গত ৩০ মে শনিবার শিল্পকলা একাডেমির এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ তোলেন যে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন, যার মধ্যে ১০ কোটি টাকা হাসনাত আবদুল্লাহর নামে প্রচার করে গত দুই দিন ধরে তীব্র ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

 

‘এই মনগড়া ফ্রেমিংয়ে’র বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি নেতা জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন কোনো তথ্য লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই, কারণ সব তথ্যই সরকারি ওয়েবসাইটে ‘ব্রড ডেলাইট ওপেন’ বা দিবালোকের মতো স্পষ্ট ও উন্মুক্ত। তিনি প্রপাগান্ডাকারীদের জ্ঞানবুদ্ধি খাটানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, সবার বাসায় এখন মোবাইল, ইন্টারনেট ও ফেসবুক আছে এবং সাধারণ মানুষ শুধু ইন্টারনেটে সার্চ করলেই কোন খাতে কয় টাকা কোন প্রক্রিয়ায় গেছে তা সহজে দেখতে পারবেন।

এমনকি তার নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি বাজেটের আপডেট তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ ‘জবাবদিহিতা’য় প্রতিনিয়ত প্রকাশ করা হয়। পরে এই বিভ্রান্তির বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসককে ফোন করা হলে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হন যে এই অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়, বরং সরকারি নির্ধারিত খাতের চলমান উন্নয়ন কাজে নেওয়া হয়েছে, যা থেকে প্রমাণ হয় যে কেবল ভিউ ও সস্তা প্রপাগান্ডার স্বার্থে তথ্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

/ডিবিটেক/ এফবিপি/ ইকে/