দেশে বাতাসের মান ও হালাল খাবার যাচাই করবে বিসিএসআইআর

বিসিএসআইআর-এর পণ্যগুলোর ব্যাপক মার্কেটিংয়ের নির্দেশ দিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম

দেশে বাতাসের মান ও হালাল খাবার যাচাই করবে বিসিএসআইআর
২ জুন, ২০২৬ ১৭:৩২  
২ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৩  

দেশের শিল্প, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং আইসিটি খানের গবেষণাগারভিত্তিক মান নিয়ন্ত্রণে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা সংস্থা (বিসিএসআইআর)। জাইকার (JICA) অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন সড়কের পাশে নিয়মিত বাতাসের মান পর্যবেক্ষণে পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং হালাল খাবার পরীক্ষায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক সহায়তা দিতে চুক্তিবদ্ধ হতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

২ জুন, মঙ্গলবার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি রোডস্থ বিসিএসআইআর কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে এমনটাই জানান সংস্থাটির প্রধান ড. সামিনা আহমেদ। এসময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন কালে স্যায়েন্স ল্যাব ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বিসিএসআইআর-এর উদ্ভাবনগুলোর ব্যাপক বাজারজাতকরণ বা মার্কেটিংয়ের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি আগামীকালকে বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, হয় এখনই তা না হলে কখনই নয়।” বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনাদের গবেষণালব্ধ যেসব পণ্য ও উদ্ভাবন বাজারে বিক্রি হচ্ছে, তা অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের।” তিনি এই বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোকে সাধারণ মানুষ এবং উদ্যোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

মন্ত্রীর সামনে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল বা ওষুধ খাতের গবেষণা সম্প্রসারণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈশ্বিক বাজারে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিসিএসআইআর-এর বিভিন্ন ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমেদ। 

স্বাগত বক্তব্যে দেশে আন্তর্জাতিক মানের বায়োইকুইভ্যালেন্স (Bioequivalence) ল্যাব সুবিধা সৃষ্টি, উন্নত গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সক্রিয় ওষুধ উপাদান বা অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (API) উদ্ভাবনের জন্য আধুনিক সিনথেটিক পদ্ধতি গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনায় তিনি জানান, বিসিএসআইআর বর্তমানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP), ইউনিসেফ, বিএএসএফ, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, ম্যারিকো ইন্টারন্যাশনাল, নোভার্টিস, নেসলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থা এবং বাংলাদেশ কাস্টমস, পুলিশ, সেনাবাহিনী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রহিমআফরোজ, প্রাণ গ্রুপ ও এসিআই-এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক সেবা দিয়ে আসছে। হিমায়িত চিংড়িতে ক্ষতিকারক নাইট্রোফিউরান মেটাবোলাইটস শনাক্তকরণ, আমদানিকৃত খাদ্যের গুণগত মান নির্ণয়, খাদ্যে এফলাটক্সিনের উপস্থিতি ও পরিমাণ পরিমাপ, সিরামিকে ক্ষতিকর লেড, ক্যাডমিয়াম ও বেরিয়ামের উপস্থিতি পরীক্ষা, সিমেন্ট-ক্লিংকার-কাচের রাসায়নিক বিশ্লেষণ, আর্সেনিকসহ ১০০টি প্যারামিটারে পানির মান পরীক্ষা এবং প্লাস্টিক ও প্রসাধন সামগ্রীর গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটি দক্ষতার সাথে কাজ করছে। এছাড়াও, দেশের অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশে রানার অটোমোবাইলসকে মোটরসাইকেলের স্পেয়ার পার্টস তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে সংস্থার খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদ, বায়োমেডিক্যাল এন্ড টক্সিকোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট পরিচালক ড. মোঃ আব্দুস সাত্তার মিঞা, ঢাকা গবেষণাগার পরিচালক  ড. মোঃ হোসেন সোহরাব, ইনস্টিটিউট অব এনার্জি রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট (আইইআরডি) পরিচালক   সরকার কামরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

/ডিবিটেক/ এমজেইউ/ এমইউআইএ্ম/