গ্রামীণফোনের সিএসটিও হলেন আন্দ্রেয়াস হগবার্গ, নজর এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরে
১ জুন থেকে গ্রামীণফোনের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আন্দ্রেয়াস হগবার্গ। টেলিনর গ্রুপে ২১ বছরের অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তা গ্রামীণফোনের ৫ বছর মেয়াদী কৌশল বাস্তবায়ন করবেন।
দেশের টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের চিফ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন অফিসার (সিএসটিও) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আন্দ্রেয়াস হগবার্গ। ২ জুন, মঙ্গলবার অপারেটরটির পক্ষ থেকে নতুন এই পদে তার নাম প্রকাশ করা হয়েছে। অপারেটরটির ম্যানেজমেন্ট প্রোফাইলে থাকা ১০ শীর্ষ পদের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হলেন তিনি।
গ্রামীণফোন সূত্রে প্রকাশ, গত ১ জুন থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন ভূমিকায় আন্দ্রেয়াস কোম্পানির কৌশলগত রূপান্তরে মূল নেতৃত্ব দেবেন এবং প্রতিষ্ঠানের আগামী পাঁচ বছর মেয়াদী দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন। মূলত চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উদ্ভাবন পরিচালনা, কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর পরিচালনায় বিশেষ নজর দেবেন তিনি। সিএসটিও হিসেবে আন্দ্রেয়াস কোম্পানির প্রতিযোগিতার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি করতে এবং একটি ডিজিটালভাবে আরও সক্ষম টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণফোনের রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
আন্তর্জাতিক টেলিকম অঙ্গনে ফিন্যান্স, প্রযুক্তি ও শেয়ার্ড সার্ভিসেস বিভাগে নরডিকস, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে টেলিনর গ্রুপে আন্দ্রেয়াসের ২১ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার বিস্তর অভিজ্ঞতা রয়েছে নব নিযুক্ত সিএসটিও’র। গ্রামীণফোনে যোগ দেওয়ার সর্বশেষ তিনি জুন ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত টেলিনর পাকিস্তানের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি টেলিনর প্রকিউরমেন্ট কোম্পানির বোর্ড সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন তিনি। বিগত বছরগুলোতে তিনি বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পদে থেকে গ্রামীণফোন, টেলিনর পাকিস্তান এবং টেলিনর মিয়ানমারকে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট অফ টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন, যেখানে তিনি গ্রুপজুড়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগের অগ্রাধিকার সংক্রান্ত উদ্যোগগুলো সরাসরি পরিচালনা করেছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে আন্দ্রেয়াস নরওয়েজিয়ান স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করেছেন এবং আইএমডি, ইনসিয়াড (INSEAD) ও স্টকহোম স্কুল অব ইকোনমিক্স থেকে এক্সিকিউটিভ এডুকেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন।
প্রতিষ্ঠানের লিডারশিপ টিমে আন্দ্রেয়াসকে স্বাগত জানিয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, "পরিবর্তনশীল নিয়ন্ত্রক পরিবেশ থেকে শুরু করে ডেটা, ডিজিটাল, আইওটি, বিটুবি এবং নিরাপত্তা সেবার সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি- সব মিলিয়ে বাংলাদেশের টেলিকম বাজার একই সাথে জটিল ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র।" টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতে যখন দ্রুত পরিবর্তনগুলো ঘটছে, তখন এই সন্ধিক্ষণে ভয়েস থেকে ডেটাতে স্থানান্তরের পাশাপাশি ডিজিটাল গ্রাহকরা আরও কাস্টমাইজড অফার, নিরাপত্তা ও ক্লাউডের মতো আধুনিক সেবা প্রত্যাশা করছেন। সিইও আশা প্রকাশ করেন যে, এআইয়ের যুগে আন্দ্রেয়াসের দূরদর্শী কৌশলগত নেতৃত্ব গ্রামীণফোনের এই রূপান্তরটিকে ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্যদের চেয়ে বেশ আগেই পরিচালনা করতে এবং একটি তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোম্পানির শীর্ষস্থানকে আরও সংহত করতে সহায়তা করবে। এই পদে যোগদানের ব্যাপারে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আন্দ্রেয়াস হগবার্গ বলেন, গতিশীল বাংলাদেশী বাজারে একটি শক্তিশালী ভিত্তি ও শীর্ষস্থানীয় অবস্থানের পাশাপাশি টেকসই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে গ্রামীণফোন। তাঁর মূল লক্ষ্য থাকবে সুশৃঙ্খল বাস্তবায়নের সাথে কৌশলগত সমন্বয় ঘটানো, গ্রাহকদের প্রতি আরও গভীর মনোযোগ দেওয়া এবং এমন সমাধান তৈরি করা যা প্রকৃত অর্থেই তাদের ডিজিটাল জীবনকে সমৃদ্ধ করবে, পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ধারাবাহিক ও দীর্ঘমেয়াদী প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।
/ডিবিটেক/ বিএসআর/ এমইউআইএম/



