যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম ফ্ল্যাগশিপ রিটেইল স্টোর খুলছে গুগল

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম ফ্ল্যাগশিপ রিটেইল স্টোর খুলছে গুগল
২ জুন, ২০২৬ ০৯:২৮  

সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল এবার অ্যাপলের চিরচেনা ব্যবসায়িক মডেলে পা বাড়াচ্ছে। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিজেদের কোনো একক ও পূর্ণাঙ্গ ফ্ল্যাগশিপ রিটেইল স্টোর (খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র) চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জাপানের রাজধানী টোকিওর অন্যতম অভিজাত ও ফ্যাশনেবল এলাকা ওমোতেসান্দোতে চলতি ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালেই চালু হতে যাচ্ছে ‘গুগল স্টোর ওমোতেসান্দো’।

গুগল জানিয়েছে, তাদের এই আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তটি মূলত ২০০১ সালের একটি ঐতিহাসিক স্মৃতির পুনরাবৃত্তি। গুগল যখন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তাদের ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক অফিস খুলেছিল, তখনো তারা প্রথম দেশ হিসেবে জাপানকেই বেছে নিয়েছিল।

মিলবে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও এআই এক্সপেরিয়েন্স
এই ফ্ল্যাগশিপ স্টোরে আগত দর্শনার্থী ও ক্রেতারা গুগলের নিজস্ব এবং তাদের পার্টনার ব্র্যান্ডগুলোর সব ধরনের হার্ডওয়্যার পণ্য সরাসরি দেখে কেনার সুযোগ পাবেন। স্টোরটিতে গুগলের জনপ্রিয় ‘পিক্সেল’ সিরিজের স্মার্টফোন, গুগল নেস্ট স্মার্ট হোম প্রোডাক্ট, ফিটবিট পরিধানযোগ্য ফিটনেস ট্র্যাকার এবং সব ধরনের অফিশিয়াল অ্যাক্সেসরিজ প্রদর্শন করা হবে। পণ্যের পাশাপাশি ক্রেতারা গুগলের সর্বাধুনিক ‘এআই এক্সপেরিয়েন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন ফিচার ও সেবা বাস্তবে কীভাবে কাজ করে, তা-ও হাতেনাতে পরীক্ষা করতে পারবেন।

এছাড়া অ্যাপল স্টোরের বিখ্যাত ‘জিনিয়াস বার’-এর আদলে গুগলের এই স্টোরেও থাকবে দক্ষ টেকনিক্যাল টিম। তারা গ্রাহকদের নতুন ডিভাইস সেটআপ, যেকোনো সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার সমস্যার সমাধান এবং সরাসরি অন-সাইট (ইন-স্টোর) গুগল পিক্সেল ফোন মেরামত বা রিপেয়ারিংয়ের সুবিধা দেবেন। পাশাপাশি প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য স্টোরের ভেতর নিয়মিত বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মশালা বা ওয়ার্কশপেরও আয়োজন করা হবে।

গুগল স্টোরের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
কারিগরিভাবে টোকিওর এই স্টোরটিই হতে যাচ্ছে আমেরিকার বাইরে গুগলের প্রথম একক ও স্বাধীন রিটেইল শপ। এর আগে গুগল মূলত ‘শপ-ইন-শপ’ বা অন্য কোনো বড় চেইনের ভেতরে ছোট বুথ আকারে ব্যবসা করত।

যেমন—কানাডায় তারা ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ‘বেস্ট বাই’-এর কিছু শাখার ভেতর ‘গুগল শপ’ পরিচালনা করে, যেখানে সাধারণ সেলস অ্যাসোসিয়েটের বদলে গুগলের নিজস্ব বিশেষজ্ঞরা গ্রাহকদের সেবা দেন। ২০১৫ সালে লন্ডনের বিখ্যাত ইলেকট্রনিক্স খুচরা বিক্রেতা ‘কারিস’-এর ভেতরেও গুগল একটি ছোট শপ খুলেছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়।

মাইক্রোসফটের ব্যর্থতা বনাম অ্যাপলের রাজত্ব
বাস্তব বা ফিজিক্যাল স্টোর চালুর ক্ষেত্রে গুগল কিন্তু প্রথম কোনো সফটওয়্যার জায়ান্ট নয়। এর আগে ২০০৯ সালে উইন্ডোজ ৭ মুক্তির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বড় পরিসরে রিটেল চেইন ব্যবসা শুরু করেছিল মাইক্রোসফট। ২০১০-এর দশকে তারা সিডনি এবং লন্ডনের মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক শহরে একের পর এক জমকালো স্টোর খোলে। ২০১১ সালে তারা তিন বছরের মধ্যে আরও ৭৫টি স্টোর খোলার মেগা প্ল্যান ঘোষণা করেছিল।

তবে ২০২০ সালের কোভিড-১৯ মহামারী আসার পর মাইক্রোসফটের এই খুচরা ব্যবসায়িক মডেলে চরম ধস নামে এবং তারা বিশ্বজুড়ে তাদের প্রায় সব শপ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সিটিতে কেবল একটি ‘মাইক্রোসফট এক্সপেরিয়েন্স সেন্টার’ এবং ভার্জিনিয়ার রেডমন্ডে একটি ‘ভিজিটর সেন্টার’ চালু রয়েছে।

মাইক্রোসফটের এই ব্যর্থতার ইতিহাস এবং অ্যাপলের একচেটিয়া রাজত্বের বাজারে গুগলের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্টোর মডেল কতটা সফল হয় এবং বৈশ্বিক ক্রেতাদের কতটা আকর্ষণ করতে পারে, তা দেখতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা।

ডিবিটেক/বিএমটি    ।    সূত্র: এনগ্যাজেট