নগদের লেনদেনে নতুন ইতিহাস, মে মাসেই পার হলো ৪৪ হাজার কোটি টাকা

নগদের লেনদেনে নতুন ইতিহাস, মে মাসেই পার হলো ৪৪ হাজার কোটি টাকা
১ জুন, ২০২৬ ১২:০০  

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনপদে ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) যে কতটা শক্তিশালী প্রভাব ফেলছে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। সদ্য শেষ হওয়া মে মাসে নিজেদের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে মাসিক ভিত্তিতে ইতিহাসে সর্বোচ্চ লেনদেনের এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপনের ঠিক আগে গ্রাহকদের বিপুল চাহিদার কারণে একই মাসে একাধিকবার একদিনে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড যেমন হয়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অ্যাক্টিভ বা সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। প্রথাগত ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে আর্থিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করার এই প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সাফল্য দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

উপাত্তভিত্তিক পরিসংখ্যান মেলালে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে সব মিলিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকার চোখ ধাঁধানো লেনদেন হয়েছে নগদের প্ল্যাটফর্মে। এর আগে এক মাসে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ডটি ছিল চলতি বছরেরই মার্চ মাসে, যখন গ্রাহকেরা নগদের মাধ্যমে ৪১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকার লেনদেন করেছিলেন। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৩০১ কোটি টাকা, যার অর্থ দাঁড়ায় সর্বশেষ ছয় মাসের ভেতর অন্তত চার মাসেই নিজেদের আগের সমস্ত রেকর্ড ওলটপালট করে নতুন ইতিহাস লিখেছে নগদ। মে মাসের শেষ দিকে ঈদুল আযহার কোরবানির হাটের সপ্তাহে অন্তত দুইবার দিনে সর্বোচ্চ লেনদেনের অভূতপূর্ব রেকর্ড তৈরি হয়। শুধু ২৪ মে নগদের মাধ্যমে একদিনে লেনদেন হয় দুই হাজার ১৬২ কোটি টাকা এবং মাত্র একদিনের ব্যবধানে ২৬ মে সেই রেকর্ড ভেঙে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ১৭৭ কোটি টাকা, যার ঠিক আগে ২০ মে-ও লেনদেন হয়েছিল দুই হাজার ১০৫ কোটি টাকা। মূলত ঈদের মৌসুমে মানুষের ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গ্রহণ, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল প্রদান এবং কেনাকাটার পেমেন্টসহ নানান প্রয়োজনে গ্রাহকেরা নগদের ওপর অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ভরসা করেছেন, যার পাশাপাশি মে মাসে সরকারি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও আর্থিক সুবিধাও সরাসরি নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

নগদের মাধ্যমে লেনদেনের এমন বিস্ময়কর ও ইতিবাচক ধারার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, নগদের এমন কিছু উদ্ভাবনী ও জনবান্ধব সেবা আছে যা গ্রাহকদের খুব সহজে আকৃষ্ট করে। যেহেতু এখানে লেনদেনের খরচ অন্য সবার চেয়ে কম, তাই দেশের সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের কাছে নগদ এক আস্থার নাম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রতি হাজার টাকা ক্যাশ আউট করার ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা এখানে সাড়ে ছয় টাকা পর্যন্ত খরচ বাঁচাতে পারছেন, যা দেশের বিদ্যমান মোবাইল আর্থিক সেবাগুলোর মধ্যে এখনো সবচেয়ে সাশ্রয়ী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর বাইরে সম্পূর্ণ ফ্রিতে সেন্ড মানি করা এবং রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় আর্থিক লাভের সুবিধার পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মাধ্যমে গ্রাহকদের লেনদেনের সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিবান্ধব নিরাপত্তা ও আর্থিক সাশ্রয়ের যুগলবন্দীর কারণেই নগদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা দিন দিন বাড়ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করে একটি সমৃদ্ধ স্মার্ট সমাজ গঠনে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

/ডিবিটেক/ এলএম/ ইকে/