আইপিও আবেদন করলো অ্যানথ্রোপিক
বিশ্বখ্যাত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট ‘ক্লড’ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেয়ার বাজারে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সোমবার নিজস্ব ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা মার্কিন শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ (এসইসি)-এর কাছে আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের জন্য একটি গোপন খসড়া নিবন্ধন বিবরণী জমা দিয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) মার্কিন ডলার বাজারমূল্যের এই এআই পাওয়ারহাউসটি অবশ্য এখনো তাদের শেয়ারের সংখ্যা বা দাম নির্ধারণ করেনি। বাজার পরিস্থিতি ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত আইপিও-র তারিখ ঘোষণা করা হবে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেই এলো বিপুল অর্থায়ন
এই গোপন আইপিও ফাইলিংয়ের ঠিক এক সপ্তাহ আগেই অ্যানথ্রোপিক তাদের ‘সিরিজ এইচ’ ফান্ডিং রাউন্ডে রেকর্ড ৬৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছিল, যা কোম্পানিটির ভ্যালুয়েশন বা বাজারমূল্যকে এক ধাক্কায় ৯৬৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যায়। সিকোইয়া ক্যাপিটাল, কোটু, অল্টিমিটার ক্যাপিটাল এবং গ্রিনওকসের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এই আইপিও-র প্রত্যাশাতেই মূলত অ্যানথ্রোপিকে এই বিপুল পরিমাণ পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন।
উল্লেখ্য, ‘গোপন আইপিও ফাইলিং’-এর সুবিধা হলো- এর মাধ্যমে কোনো কোম্পানি তাদের অভ্যন্তরীণ আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক ঝুঁকি বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ না করেই আইপিও-র প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে। অ্যানথ্রোপিক যদি চূড়ান্তভাবে শেয়ার বাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তারা একটি অফিশিয়াল ‘এস-১’ ডকুমেন্ট প্রকাশ করবে, যেখানে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এবং কার কত ভোটিং পাওয়ার রয়েছে তার সম্পূর্ণ খতিয়ান থাকবে।
সুপার হটেস্ট আইপিও সিজন: মুখোমুখি স্পেসএক্স ও ওপেনএআই
অ্যানথ্রোপিক এমন এক সময়ে শেয়ার বাজারে আসার ঘোষণা দিল, যখন বিশ্ববাজার ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং হাই-প্রোফাইল ‘আইপিও সিজন’ প্রত্যক্ষ করছে। এলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স ইতিমধ্যেই ২ ট্রিলিয়ন ডলার ভ্যালুয়েশনের লক্ষ্য নিয়ে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বৃহত্তম আইপিও-র জন্য আবেদন করে রেখেছে।
অন্যদিকে, অ্যানথ্রোপিকের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই-ও গত মার্চ মাসে ১২২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ফান্ডিং সংগ্রহ করে ৮৫২ বিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশন ছুঁয়েছে এবং তারাও নিজস্ব আইপিও-র প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বৃহত্তম দুই এআই ল্যাবের এই প্রকাশ্য আইপিও যুদ্ধ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা নেবে।
‘আন্ডারডগ’ থেকে যেভাবে ৪৭ বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য
২০২১ সালে ওপেনএআই-এর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও গবেষকদের হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল অ্যানথ্রোপিক। শুরুতে চ্যাটজিপিটি-র তুলনায় এদের বেশ দুর্বল প্রতিযোগী বা আন্ডারডগ মনে করা হলেও, বিগত বছরগুলোতে করপোরেট ও এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের মন জয় করে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে কোম্পানিটি।
ব্যবসায়িক সাফল্যের হাত ধরে তাদের বার্ষিক আয়ের গ্রাফ অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়ছে। ২০২৫ সালের শেষে যেখানে তাদের রেভিনিউ রান-রেট ছিল মাত্র ৯ বিলিয়ন ডলার, তা মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।
আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নতুন এআই মডেল ‘মিথোস’
অ্যানথ্রোপিকের আয়ের এই গতি আগামীতে আরও বহুগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার মূল হাতিয়ার তাদের আপকামিং এআই মডেল ‘মিথোস’। গত এপ্রিল মাসে মডেলটির ফার্স্ট লুক প্রকাশ করা হলেও এর পাবলিক অ্যাক্সেস বা ব্যবহার এখনো কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
সফটওয়্যার ডেভেলপারদের সতর্ক করে অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছিল যে, মিথোস মডেলটি কোডিংয়ের ক্ষেত্রে হাজার হাজার অত্যন্ত জটিল ও উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বাগ বা ত্রুটি নিজে থেকেই খুঁজে বের করতে পেরেছে, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার আগে সংশোধন করা প্রয়োজন। ব্লুমবার্গের একটি বিশেষ রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে যে, সাইবার নিরাপত্তা ও এআই সুরক্ষার অংশ হিসেবে অ্যানথ্রোপিক খুব শীঘ্রই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাকে এই শক্তিশালী ‘মিথোস’ মডেলটির বিশেষ অ্যাক্সেস দিতে যাচ্ছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ



