৮০ হাজার কোটি ডলারের মেগা ফান্ড গঠন করছে অ্যালফাবেট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির বৈশ্বিক আধিপত্য ধরে রাখতে এবং এর ব্যয়বহুল অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় ধরনের তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান ‘অ্যালফাবেট’। প্রতিষ্ঠানটি নতুন ইকুইটি বা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বাজার থেকে রেকর্ড ৮০ বিলিয়ন (৮,০০০ কোটি) মার্কিন ডলার সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করছে। আর এই মেগা প্রজেক্টে গুগলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ওয়ারেন বাফেটের বিখ্যাত হোল্ডিং কোম্পানি ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে’। তারা এককভাবে অ্যালফাবেটে ১০ বিলিয়ন (১,০০০ কোটি) ডলারের এক বিশাল বিনিয়োগ করার চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
গত সোমবার গুগলের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পেন্টাগন ও সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বাজারে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই চুক্তিকে গুগলের দীর্ঘমেয়াদি এআই এবং ক্লাউড স্ট্র্যাটেজির প্রতি বাফেটের এক হাই-প্রোফাইল সমর্থন হিসেবে দেখছেন।
বাফেটের বার্কশায়ারের বিশেষ শেয়ার ক্রয়
চুক্তি অনুযায়ী, অ্যালফাবেট তাদের মোট তহবিলের ১০ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বার্কশায়ারের কাছে ‘প্রাইভেট প্লেসমেন্ট’ বা ব্যক্তিগত চুক্তির মাধ্যমে বিক্রি করবে। এর মধ্যে রয়েছে:
ক্লাস এ (Class A) কমন স্টক: ৩৫১.৮১ ডলার প্রতি শেয়ার মূল্যে ৫ বিলিয়ন ডলার।
ক্লাস সি (Class C) ক্যাপিটাল স্টক: ৩৪৮.২০ ডলার প্রতি শেয়ার মূল্যে ৫ বিলিয়ন ডলার।
উভয় ক্ষেত্রে শেয়ারের এই দাম গত সোমবারের বাজার সমাপনীর চেয়ে কিছুটা কম বা ডিসকাউন্টে দেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর পর অবশ্য আফটার-আওয়ার্স ট্রেডিংয়ে অ্যালফাবেটের শেয়ারের দাম সাময়িকভাবে ২ শতাংশ কমেছে। চেক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা স্টিভেন চেক বলেন, “যেকোনো কোম্পানিই বার্কশায়ারের মতো অংশীদার পেতে রোমাঞ্চিত বোধ করে। কারণ তারা দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত শেয়ারহোল্ডার।”
এআই খরচের লাগামহীন দৌড় ও বাফেটের আস্থা
এর আগে গত এপ্রিল মাসেই অ্যালফাবেট তাদের বার্ষিক মূলধনী ব্যয়ের পূর্বাভাস আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে ১৮০ থেকে ১৯০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছিল। এআই চ্যাটবট, এন্টারপ্রাইজ ক্লাউড টুল এবং গুগলের নিজস্ব কাস্টম চিপ তৈরির পেছনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
বার্কশায়ারের প্রধান নির্বাহী গ্রেগ অ্যাবেল মূলত গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক থেকেই গুগলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছিলেন। গত মাসেই বার্কশায়ার জানিয়েছিল যে, তারা গুগলে নিজেদের শেয়ার তিন গুণেরও বেশি বাড়িয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬.৬ বিলিয়ন ডলার। গ্লেনভিউ ট্রাস্ট কোম্পানির সিআইও বিল স্টোন বলেন, “এই অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রমাণ করে যে, গ্রেগ অ্যাবেল বিশ্বাস করেন—গুগল এআই-এর পেছনে যে বিপুল খরচ করছে, তা থেকে ভবিষ্যতে একটি বড় অঙ্কের রিটার্ন বা লাভ নিশ্চিতভাবেই উঠে আসবে।”
কীভাবে সংগৃহীত হবে অবশিষ্ট ৭০ বিলিয়ন ডলার?
অ্যালফাবেট জানিয়েছে, বাফেটের ১০ বিলিয়ন ডলারের বাইরে বাকি টাকা তারা বিভিন্ন ধাপে বাজার থেকে তুলবে:
৩০ বিলিয়ন ডলার: শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর সহায়তায় একযোগে পাবলিক অফারিং বা সাধারণ জনগণের কাছে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে তোলা হবে।
৪০ বিলিয়ন ডলার: আগামী জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে একটি ‘অ্যাট-দ্য-মার্কেট’ অফারিং প্রোগ্রাম চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি বাজার পরিস্থিতি বুঝে সুবিধাজনক সময়ে ধীরে ধীরে সাধারণ শেয়ার বিক্রি করতে পারবে।
চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ
তহবিল গঠনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অ্যালফাবেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “বর্তমানে বিশ্বজুড়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে গুগলের এআই সলিউশন ও ক্লাউড সার্ভিসের যে বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে, তা কোম্পানির বর্তমান সরবরাহ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি।” ফলে দ্রুত অবকাঠামো বাড়ানো ছাড়া গুগলের সামনে কোনো পথ নেই।
উল্লেখ্য, এই বিপুল শেয়ার বিক্রির পাশাপাশি বিগত এক বছরে বিভিন্ন বৈশ্বিক মুদ্রা ও বাজার থেকে গুগল আরও ৮৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নিয়েছে, যার ফলে কোম্পানির মোট প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের পরিমাণ এখন ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: রয়টার্স



