উইন্ডোজ ছেড়ে লিনাক্সে যাচ্ছে ফ্রান্স
ফ্রান্সের ডিজিটাল মন্ত্রী ডেভিড অ্যামিয়েল ঘোষণা দিয়েছেন, তারা তাদের সরকারি কম্পিউটারগুলোতে মাইক্রোসফট উইন্ডোজের জায়গায় ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম লিনাক্স ব্যবহার করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি নির্ভরতা কমাতে ফ্রান্স সরকারের ‘লিনাক্সে’ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের লড়াইয়ে একটি বড় পদক্ষেপ।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো “আমাদের ডিজিটাল ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা”। ফরাসি সরকার তাদের তথ্য ও ডিজিটাল পরিকাঠামোর ওপর তাদের নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সেটির উপর নির্ভর করতে চাচ্ছে না। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অস্থিতিশীল ও অনির্দেশ্য আচরণের প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো যায়।
বর্তমানে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে ফ্রান্সের ডিজিটাল এজেন্সি ডিনামের কম্পিউটার দিয়ে। তবে পুরো প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা লিনাক্সের কোন ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবহার করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
ফ্রান্স একা নয়। সারা ইউরোপে মার্কিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর আন্দোলন বাড়ছে। গত জানুয়ারিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বিদেশি প্রোভাইডারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য কমিশনকে নির্দেশনা প্রদানের একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করে।
ফ্রান্স আগেও মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। মাত্র কয়েক মাস আগে তারা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের জন্য মাইক্রোসফট টিমসের বদলে ফরাসি ভিসিও ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া চলতি বছরের শেষ দিকে স্বাস্থ্যসেবা ডাটা প্ল্যাটফর্মকেও একটি বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, লিনাক্স একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম, যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। নির্দিষ্ট কাজের জন্য এর বিভিন্ন কাস্টমাইজড ভার্সন পাওয়া যায়। ওপেন সোর্স হওয়ায় এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে রাখা যায়।
ফ্রান্সের এই উদ্যোগ ইউরোপীয় ডিজিটাল স্বাধীনতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। যদি এটি সফল হয়, তবে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোও এই পথ অনুসরণ করতে পারে।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: টেকক্রাঞ্চ



