প্রযুক্তিনির্ভর ‘রিফর্ম ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করণে গুরুত্বারোপ করলেন তথ্যমন্ত্রী

প্রযুক্তিনির্ভর ‘রিফর্ম ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করণে গুরুত্বারোপ করলেন তথ্যমন্ত্রী
৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৩৬  

গণমাধ্যম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিজ্ঞাপন নীতিমালা প্রণয়ণের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ‘রিফর্ম ট্র্যাকিং’ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীতে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম বাংলাদেশ ও ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিফর্ম ট্রাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ আলোচনা সভায় এমন অভিব্যক্তি তুলে ধরেন মন্ত্রী। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, এই জাতির মধ্যে চিন্তা জগত রয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ সমালোচনা বা অনুসন্ধানী মন্তব্য করবেন এবং সরকারের কাছে তুলে ধরবেন। সরকারের কাছে তুলে ধরলে সরকার উপকৃত হবে।

এসময় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং সরকার গণমাধ্যম সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবসময় সংস্কার ভালো কিছু দেয়। আমরা সেই পথে আগাচ্ছি। আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেসব নিয়ে কাজ করবো। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে কাজ করতে যাচ্ছি, সবার নিরাপত্তা বিধান করছি।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও নাগরিক উদ্যোগ রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মন্তব্য করে স্বপন বলেন, সরকার এসেছে অল্প কিছুদিন হয়েছে। সেইসঙ্গে প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মতো এখনও পরিপক্বতা আসেনি। সরকারের ভুলগুলো তুলে ধরবেন এবং ধরিয়ে দিবেন।

তিনি আরও বলেন, আগের সরকারের যে চিন্তা ভাবনা, সেখান থেকে আমরাও শিক্ষা নিয়েছি। এর আগে আমরাও বারবার ক্ষমতায় ছিলাম। ভুল এবং প্রশংসা; দুটিই আমাদের আছে। 

তথ্যমন্ত্রী ইআরএফ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের সমালোচনা, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ সরকারকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে।

তিনি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা এবং অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য কল্যাণমূলক কাঠামো প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানান।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি গণমুখী, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল মিডিয়া পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো ডঃ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দৈনিক নিউ এইজের সম্পাদক নূরুল কবীর ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বক্তব্য রাখেন। 

এদের মধ্যে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন,ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের ভিতর দিয়ে চেতনা আসলো সেটার ভিতর দিয়ে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা আরো বেশি প্রকাশ্য এসেছে। সংস্কার কোনো স্থির বিষয় না। এটা একটা অব্যাহত বিষয় ও চলমান বিষয় এবং যে কোনো অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে হলে সেটার মানবদেহের ভিতরে যেমন করে রক্ত সঞ্চালন দরকার করে সংস্কার হল একটি অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার জন্য।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আগামী দিনে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনীতিবিদরা সংস্কারের ধারণা থেকে এবারের যে নির্বাচন ইশতেহার দিয়েছে। তার ভিতরে এই সংস্কারের যে প্রয়োজন এবং একই সাথে যে প্রত্যাশা: দুটোই প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ডিবিটেক/এসআই/এমইউআইএম