টেলিকম শিল্পখাত ও জনতার মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে  ‘ওর্সড ডিসকানেক্ট’

কানেক্টিভিটি বিজনেস আর কানেক্ট করার জায়গায় নেই : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

কানেক্টিভিটি বিজনেস আর কানেক্ট করার জায়গায় নেই : বিটিআরসি চেয়ারম্যান
২৪ মে, ২০২৫ ২২:০০  
২৫ মে, ২০২৫ ০০:১৫  

টেলিকম খাতের সংযোগ বিযুক্তির কথা তুলে ধরলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী। সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে ২০১০ সালের মধ্যে বড় একটি বিযুক্তির ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এর বাইরেও একটা ফানি ডিসকানেক্ট রয়েছে। সেটা হচ্ছে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি। অথচ আজকের দিনে কমিউনিকেশন ও ইনফরমেশন টেকনোলজি আলাদা করতে পারেন না। কিন্তু ২০১১ সালে আমরা আইসিটি মিনিস্ট্রি গঠন করলাম। দ্রুতই আমরা বুঝতে পারলাম  টেলিকম ছাড়া আইসিটি আলাদা থাকতে পারে না। গত ১০ বছরেও টেলিকম ও আইসিটি ছিলো একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এটাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রির প্রবৃদ্ধি আটকে দিচ্ছে।ওও তবে তার চেয়েও জঘন্য ডিসকানেক্ট হয়েছে টেলিকম ইন্ডাস্টি ও পিপলের মধ্যে। 

কিভাবে এই দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তার ব্যখ্যায় তিনি জানান, কপার তারের টেলিফেন দিয়ে মানুষকে কানেক্ট করাই ছিলো মূলত ব্যবসা। নেটওয়ার্কের মূল ব্যবসা ছিলো কানেক্টিভিটি। তখনকার ভয়েস থেকে বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এলো এসএমএস। এক পর্যায়ে অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গড়তে গিয়ে কানেক্টির সঙ্গে হাতে হাত ধরে এগিয়ে গেলো দেশের টেলিকম শিল্প খাত। কিন্তু এই কানেক্টিভিটি বাড়াতে গিয়ে এটা দিয়ে মানুষ কি ব্যবহার করবে তা ভুলে গিয়ে তাদের কাছে মূল্যবান সেবায় সীমাবদ্ধ থাকছে। এভাবে চললে এই শিল্পটি আর এগোবে না।

‘এ কারণেই এখন আমাদের কানেক্টিভিটি থেকে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন নু সার্ভিসে যেতে হবে’- যোগ করেন এমদাদ উল বারী।  তা না হলে স্পটিফাই যেমন পড়ার সিডি -ডিভিডি ব্যবসাকে গিলে খেয়েছে তেমন পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। বললেন, বিশ্ব এখন উন্মুক্ত নেটওয়ার্কে যাচ্ছে। তাই ব্যবসা আর উলম্ব ভাবে নয় সম্প্রসারিত হবে আড়াআড়ি ভাবে। ক্লাউড কম্পিউটিং এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্ট নেটওয়ার্ক টপোলজি ও সার্ভিস কমিউনিকেশনকে কোথায় নিয়ে যাবে তা আমরা জানিনা। ফলে আগামীকাল কেউই নিজের জায়গায় স্থিতি থাকতে পারবেন না। তাই নিজের পরিবর্তন নিজেদেরকেই করতে হবে। 

বক্তব্যে টেলিকম খাতে সংযুক্তির সুযোগ থাকার পরেও কিভাবে বিযুক্ত হলো সেই ধারাবিহতা তুলে ধরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বললেন, ফিক্সড টেলিকম ও মোবাইল কোম্পানিগুলো যখন নেটওয়ার্ক শেয়ারিং নিয়ে মারামারি শুরু করলো তখন এই খাতের সেকেন্ড বিগ ডিসকান্টেক্ট হয়েছে। একইভাবে লাস্টমাইলে এনটিটিএন এবং আইসপি’র মধ্যে ডিসকানেক্ট হলো। এখনো সে অবস্থাতেই আছে। একইভাবে যদি ক্লাসিক ডিসকানেক্টের কথা বলি- যেমন শুরুতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও মোবাইল সার্ভিসের মধ্যে কোনো ব্যবধান ছিলো না। এটাকে কানেক্টিভিটি হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু যখন পরিস্কার হয়ে গেলো- এটা একটি আর্থিক সেবা, তখন এটি বিকশিত হলো। ফলে এই ডিসকানেক্টটা থেকেই গেলো। 

তাই নেটওয়ার্ক নিয়ে কাড়াকাড়ি না করে এই খাতের ব্যবসায়ীদের গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী ডিজিটাল সেবা পরিষেবায় মনোযোগী হতে বলেছেন বিটিআরসি প্রধান। এটাই সময়ের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেছেন,পুরো কানেক্টিভিটি নিয়ে সবাই যথন ব্যস্ত তখন দেশে ভয়েস আর ইন্টারনেট বিযুক্ত হয়েছে। কেননা এর ফাঁকে ডেচার একটা রেভ্যুলেশন হয়েগেছে। এর ওপর ডিজিটাল সার্ভিসের একটি পৃথিবী তৈরি হয়ে গেলো; আমরা তা ধরতেই পারলাম না। এই ডিসকান্টেডের ফলে যে সময়ে আমাদের আরেকটা ডিসকানেক্ট হয়ে গেলো। সে সময়ে আমাদের ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ইত্যাদি  বিষয়ে মানুষকে কনসার্স দরকার ছিলো, তা না করে দূর দূর করে তাড়ালাম। এরপর এলো ভয়েস অ্যান্ড ওটিটি। এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিযুক্তি ঘটলো। এখন আমরা সবাই মিলে ডিজিটাল সার্ভিস প্রোভাইডার হওয়ার চেষ্টা করছি।

‘কানেক্ট করার কথা থাকলেও টেলিভিশন ও ইন্টারনেট আরেকটা ডিসকানেক্ট  তৈরি করছে উল্লেখ করে এমদাদ উল বারী বলেন,একটা সময় এই দুটি দু ধরনের প্রযুক্তি ছিলো। দুইটি রেগুলেটরি সংস্থা রেগুলেট করতো। তখন একই বাসায় টেলিভিশন ও টেলিফোন থাকতো। কিন্তু আমরা কখনো বুঝতে পারিনি দুটোই এক জিনিস। এসময় আইএসপিরা নেটওয়ার্ক তৈরি করলো। ওদিকে ইন্টারনেট প্রোটেকল আসলো। এখন ব্রডকাস্ট সার্ভিস টেলিফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। কিন্তু এখানেও একটা বড় ডিসকানেক্ট হয়ে বসে রয়েছে।  

এই ডিসকানেক্টকেই একটি সেবার বৃত্তে আনতে বিটিআরসি কাজ করছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেছেন, আমরা এমন ভাবে লাইসেন্স ক্যাটাগরি করছি যেন একটা আরেকটার ওপর না আসে। সবাই এক সঙ্গে একটি বিজনেস কানেক্টিভিটি করতে পারে। কেননা কানেক্টিভিটি বিজনেস আর কানেক্ট করার জায়গায় নেই। 

শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ১৯তম বিডিনগ সম্মেলনের সমাপনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী। বিডিনগের সভাপতি নাদির বিন আলীর সভাপতিত্বে আইএসপিএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টারের (এপিনিক) মহাসচিব জিয়া রং লো, এপিনিক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সুমন আহমেদ সাবির, বাহন সিটিও রাশেদ আমিন বিদ্যুৎ এবং আইএসপিএবি মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়া। 

শনিবার শেষ হচ্ছে বিডিনগ সম্মেলন