রাজধানীর নির্বাচিত স্কুলে সপ্তাহে ৩ দিন ক্লাস অনলাইনে

রাজধানীর নির্বাচিত স্কুলে সপ্তাহে ৩ দিন ক্লাস অনলাইনে
৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:১১  

প্রাথমিকভাবে রাজধানীর অনলাইন ক্লাসের সক্ষমতাসম্পন্ন এমন কিছু নির্বাচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে হাইব্রিড পদ্ধতিতে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। আর  শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি (অফলাইন) ক্লাসে অংশগ্রহণ করবে শিক্ষার্থীরা। 

৯ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট এর সম্মেলন কক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে নিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক  এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছলেন। 

সভায় রাজধানীর  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের উপস্থিতিতে ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে (অফ লাইন ও অন লাইন) ক্লাস নেয়ার পক্ষে সিংহভাগ মত আসে। এক্ষেত্রে সরকারের প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন বক্তারা। আলোচনা শেষে নগরীর যানজট হ্রাস, জ্বালানি সাশ্রয় এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

সভায় বক্তারা বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য ভায় অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বয়ে (ব্লেন্ডেড লার্নিং) নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত  বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।  এছাড়া, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি রিপোর্টিং সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়, যা অফলাইন ক্লাসে ফলো-আপের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ। যেসব প্রতিষ্ঠান সক্ষম, তারা স্বেচ্ছায় এই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘আপাতত ঢাকা মহানগরীর বড় ও যানজটপ্রবণ এলাকার রিনাউনড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘এটি সবার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যারা সক্ষমতা রাখে, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আমরা এই ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন’ বা সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছি।

তিনি জানান, ‘শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হলেও শিক্ষকদের স্কুলেই উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষকরা বাসায় বসে ক্লাস নেবেন না।’

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় এনে শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিযোজিত করা জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।

ডিবিটেক/কেএম/ইকে