যবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে যোগ দিলেন অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর

যবিপ্রবির উপাচার্য হিসেবে  যোগ দিলেন অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর
১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৫৮  

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) পঞ্চম উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। ১৭ এপ্রিল, বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ কার্যালয়ে যোগদানপত্রে সই করেন। 

এর আগে ১৩ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মোঃ শাহ আলম সিরাজের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাকে নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।  

সকাল ৯ টায় যোগদানের আগে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামফলিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন নতুন উপাচার্য। এরপর ১৯৫২ থেকে ২০২৪ সালের সকল  বীর শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। যোগদানের আনুষ্ঠানিকতার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ‘জিয়া ট্রি’র কর্মসূচির আদলে একটি নিম গাছের চারা রোপন করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দপ্তরপ্রধান; পর্যায়ক্রমে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন।

যবিপ্রবিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে মতিবিনিময় সভায় অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, যবিপ্রবি শিক্ষা ও গবেষণায় অনেক এগিয়ে আছে, আমাদের এই গবেষণা ও একাডেমিক কাজকে আরও বেগবান করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে সৃষ্ট জ্ঞান আমাদের জাতির কাছে বিতরণ করতে হবে। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের গবেষণায় অবদান রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি সহপাঠ্যক্রমে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি সকলকে সঙ্গে নিয়ে ন্যায্য, মানবিক ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়তে চান বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও  স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের তোহোকু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন। তিনি ১৯৮৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগে শিক্ষকতা করেন। এছাড়ও কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। খ্যাতিমান এই বিজ্ঞানী জাপান ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা ও ভিজিটিং সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা গবেষণা সাময়িকীতে তার ১৪০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ এবং ২৩টি বুক চ্যাপ্টার প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিশ্ব একাডেমি অব সায়েন্সেস ও বাংলাদেশ একাডেমিক অব সায়েন্সেসের একজন সম্মানিত ফেলো। তিনি ১৯৫৮ সালের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

ডিবিটেক/এনএইচ/ইকে