বিটিআরসির অনুমোদন পেল ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ প্রযুক্তি; সাধারণ ফোরজি ফোনেই মিলবে এসএমএস, ডেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ কলিং
স্টারলিংকের সাথে সরাসরি মোবাইল-টু-স্যাটেলাইট সংযোগ চালু করছে বাংলালিংক
- সরাসরি স্যাটেলাইটভিত্তিক সংযোগ দিতে বিটিআরসির অনুমোদন পেল বাংলালিংক
- দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে চালু হচ্ছে স্টারলিংক ডিরেক্ট-টু-সেল (Direct-to-Cell) প্রযুক্তি
- অতিরিক্ত কোনো অ্যান্টেনা বা ডিশ ছাড়াই আকাশ পরিষ্কার থাকলে যেকোনো ফোরজি স্মার্টফোনে মিলবে বার্তা ও কলিং সুবিধা
দেশের প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক কভারেজের বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চল, গভীর সমুদ্র ও দুর্গম জনপদে মোবাইল সংযোগ নিশ্চিত করতে স্টারলিংকের ‘ডিরেক্ট-টু-সেল’ (Direct-to-Cell) প্রযুক্তি চালুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে বাংলালিংক। ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সরাসরি মোবাইল-টু-স্যাটেলাইট প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করল।
নতুন এই সেবাটি সাধারণ গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত সহজ ও সুলভ করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আওতায় কোনো বিশেষ স্যাটেলাইট হ্যান্ডসেট, বহিরাগত ডিশ অ্যান্টেনা কিংবা অতিরিক্ত হার্ডওয়্যার ইনস্টলেশন ছাড়াই সেবা উপভোগ করা যাবে। উন্মুক্ত আকাশের নিচে থাকা অবস্থায় সাধারণ বাংলালিংক ফোরজি সক্ষম স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সরাসরি লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইটের সাথে সংযুক্ত হতে পারবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে এই সংযোগের মাধ্যমে গ্রাহকরা টেক্সট মেসেজ (এসএমএস), ডেটা-মেসেজিং এবং হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস ও ভিডিও কলের সুবিধা পাবেন। পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ভয়েস ও বিস্তৃত ডেটা সেবা সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলালিংকের প্রচলিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মেলবন্ধন বঙ্গোপসাগরের গভীর জলে অবস্থানরত জেলে, উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসী, দুর্গম হাওর-দ্বীপ এবং পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে। বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, পাহাড়ি ঢল ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে যখন ভূ-পৃষ্ঠের মোবাইল টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন জরুরি সাহায্য চাওয়া এবং পরিবারের সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে এই প্রযুক্তি জীবনরক্ষাকারী ভূমিকা রাখবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়োহান বুসে বলেন, "এটি প্রযুক্তির চেয়েও মানুষের কল্যাণের বিষয়। সাগরে ভাসমান জেলে কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়া কোনো ব্যক্তি যাতে নেটওয়ার্কের বাইরে চলে না যায়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। স্টারলিংকের সহায়তায় বাংলালিংক প্রচলিত নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।"
বিটিআরসির এই অনুমোদন বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে আরও স্থিতিশীল ও সর্বজনীন করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী মাইলফলক।
//ডিবিটেক/ এফটিপি/বিকেআর/এসএমপি//





