ত্রুটিপূর্ণ ফুটপাত ও রেলিং ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল এলজিইডি

নোয়াখালীতে সেতু নির্মাণে অনিয়ম: ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত ও প্রকৌশলী বদলি

  • বেগমগঞ্জে ৫.৬১ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে রডের বদলে তার ব্যবহারের প্রমাণ
  • ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও ১ প্রকৌশলীকে বদলি; ১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
  • ঠিকাদারকে ৭ দিনের মধ্যে কাজ সংশোধনের নির্দেশ ও অনিয়মের অংশ অপসারণ

নোয়াখালীতে সেতু নির্মাণে অনিয়ম: ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত ও প্রকৌশলী বদলি
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪৯  

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। নির্মাণকাজের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ত্রুটিপূর্ণ কাজ ভেঙে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার কারণে এলজিইডির এক প্রকৌশলীকে বদলিসহ দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে এক সদস্যের কমিটি গঠন করে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এলজিইডি নোয়াখালী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বেগমগঞ্জ উপজেলার জমিদারহাট থেকে সাহেবেরহাট ও হাসানহাট হয়ে মাইজদী আঞ্চলিক মহাসড়কে ৪৯ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি ব্রিজের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। শুরুতে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেলেও পরবর্তীতে গত বছরের ৫ আগস্টের পর কাজটি হাত বদল হয়ে ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে মো. ফরহাদ নামে একজন ঠিকাদার পান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ব্রিজটির নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলে আসছিল। শেষের দিকে রাতের অন্ধকারে ব্রিজের ফুটপাতের স্ল্যাবে রডের পরিবর্তে চিকন তার এবং নিম্নমানের সিমেন্ট দিয়ে কাজ করা হয়, যা দিনের বেলা পথচারীদের পা পড়ার সঙ্গেই ভেঙে পড়ে। একই ঘটনা ঘটে সেতুর রেলিংয়ের ক্ষেত্রেও।

নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, সরেজমিনে এলজিইডির প্রতিনিধি দল পরিদর্শনের সময় সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের কাজ নকশা ও স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত বলে চিহ্নিত করে। এরপর মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতেই ওই নিম্নমানের অংশগুলো ভেঙে অপসারণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নকশা অনুযায়ী কাজ সংশোধনের লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং স্পেসিফিকেশন বহির্ভূত কাজের কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর মধ্যেই উপজেলা প্রকৌশলীকে বদলি এবং অন্য দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এলজিইডি নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.এস.এম মহসীনকে প্রধান করে গঠিত এক সদস্যের তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

//ডিবিটেক/বিএনও/এসএমপি/এমএনও//