"আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না": চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি

সাবেক ভিসি ড. সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে রবিবারে কর্মবিরতির ঘোষণা

  • সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চুয়েটে শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন ও আগামী রোববার ২ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা
  • "আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না"—স্পস্ট জানালেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ
  • ৩য় দিনের মতো শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন, শহীদ মিনারে মানববন্ধন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি পাঠ, স্মারকলিপি প্রদান ও সন্ধ্যায়

সাবেক ভিসি ড. সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে রবিবারে কর্মবিরতির ঘোষণা
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৯  

চট্টগ্রাম, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর): চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। আজ ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেল তিনটায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্পষ্টভাবে বলেন, "আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।"

বিকেল তিনটায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, "উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম তাঁর গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।" বক্তারা আরও বলেন, চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের চলমান ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষকদের দাবিগুলো তুলে ধরতে স্মারকলিপি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতির সমাধান এবং শিক্ষকদের দাবিগুলো শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, অধ্যাপক সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে আগামী রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা। অল্প সময়ের মধ্যে সরকার বিষয়টির সুরাহা না করলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এদিকে সাবেক উপাচার্য ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আজ টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি চলেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে অংশগ্রহণ করেন। তারা 'ভিসি কে, ভিসি কে, সায়েম স্যার ছাড়া আবার কে?', 'গর্জে উঠুক রাজপথ, সায়েম স্যারের প্রত্যাবর্তন হোক', 'দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই' ইত্যাদি স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী দেবজিত দাশ গুপ্ত বলেন, "সায়েম স্যার একজন বহুমুখী গুণসম্পন্ন মানুষ। তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একজন শিক্ষক ও উপাচার্য ছিলেন। তাকে পুনরায় উপাচার্য পদে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি ও আন্দোলন চলবে। আমাদের একটাই দাবি—সায়েম স্যারকে আবারও উপাচার্য হিসেবে চাই।"

মানববন্ধন শেষে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস আরিয়ান প্রধানমন্ত্রীর নিকট শিক্ষার্থীদের লেখা একটি খোলা চিঠি পাঠ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি পাঠানো এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা গত বুধবার পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছেও তাঁদের দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি আজও অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, চুয়েটের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম সংহতি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের অ্যালামনাইদের সমর্থনের কথা জানা যায়। তবে ঢাকার আইবি ভবনকেন্দ্রিক ‘চুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’-এর নামে প্রকাশিত একটি বিবৃতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, ওই বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের ঘোষিত দাবির পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান না নিয়ে দুই পক্ষকে সমান্তরালভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কয়েকজন অ্যালামনাই জানিয়েছেন যে উক্ত বিবৃতির বিষয়ে তাঁদের পূর্বমতামত নেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে নামেন শিক্ষার্থীরা এবং ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।

//ডিবিটেক/মো: তানভীর আহমাদ/সিপিএম/আইএইচ//