তিন মাসে ভোট আয়োজনের নির্দেশ

আইনি জট কাটিয়ে ই-ক্যাবের নতুন নির্বাচন বোর্ড

  • হাইকোর্টের নির্দেশের পর নতুন নির্বাচন বোর্ড গঠন
  • নির্বাচন বোর্ডে তিন কর্মকর্তা, আপিল বোর্ডেও তিন কর্মকর্তা
  • ২০২৫–২৭ মেয়াদের নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া ফের শুরু

আইনি জট কাটিয়ে ই-ক্যাবের নতুন নির্বাচন বোর্ড
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪৭  

দেশের ই-কমার্স খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) ২০২৫–২৭ মেয়াদের নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া ফের শুরু হয়েছে। আইনি জটিলতা ও দীর্ঘদিনের স্থগিতাদেশের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে নির্বাচন বোর্ড ও নির্বাচন আপিল বোর্ড গঠন করেছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন বোর্ডের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের পথ এখন উন্মুক্ত হয়েছে।

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড সাপোর্ট মেজার্স উইং থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে নতুন দুই বোর্ড গঠনের বিষয়টি জানানো হয়। অফিস আদেশে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন নং ১১৬০০/২০২৫ এবং বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ধারা ১৮(২)(খ)-এর বিধান অনুসারে ই-ক্যাবের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নতুন বোর্ড গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শরীফ মোস্তাফিজুর রহমানকে। তিনি ডব্লিউটিও শাখা-১-এ দায়িত্ব পালন করছেন। বোর্ডের সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপসচিব ফিরোজ আল মামুন, পরিকল্পনা-১ শাখা এবং উপনিয়ন্ত্রক মো. সিরাজুল ইসলাম, এফটিএ-৪।

এ ছাড়া নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সুফিয়া আক্তার রুমীকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন যুগ্মসচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, প্রশাসন-২ অধিশাখা এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহবুবুর রহমান, টিসিএম-১ শাখা।

এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ মে ই-ক্যাবের ২০২৫–২৭ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে ১৪ মে নির্বাচন বোর্ড নির্বাচন স্থগিত করে। পরে নতুন করে ২৬ জুলাই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও ভোটের কয়েক দিন আগে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করেন। এর ফলে নির্বাচনী কার্যক্রম আবারও থেমে যায়।

এরপর ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রিট পিটিশনটি নিষ্পত্তি করে ই-ক্যাবের নির্বাচন তিন মাসের মধ্যে আয়োজনের নির্দেশ দেন। আদালত বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ধারা ১৮(২)(খ) অনুসরণ করে নতুন নির্বাচন বোর্ড ও নির্বাচন আপিল বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেয়।

রিট পিটিশনটি করেছিলেন মাস্টার ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজির মালিক ও ই-ক্যাবের সদস্য মো. আনোয়ার সাদাত। তিনি নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগের কয়েকটি আদেশ চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের পর নতুন নির্বাচন বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সেই আইনি জটের পরবর্তী ধাপ অতিক্রম করেছে ই-ক্যাব।

ই-ক্যাবের প্রশাসকের দায়িত্বে প্রথমে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল সেলের উপসচিব মুহাম্মদ সাঈদ আলী। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. সাইফ উদ্দিন আহম্মদ প্রশাসকের দায়িত্ব পান। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছিল না এবং স্থগিতাদেশের সময় শেষ হলে নতুন নির্বাচন ও আপিল বোর্ড গঠন করে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

নতুন বোর্ড গঠনের ফলে এখন ই-ক্যাবের ২০২৫–২৭ মেয়াদের নির্বাচনের তফসিল, ভোটার তালিকা ও অন্যান্য নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, নতুন নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সদস্যদের পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে ই-ক্যাবের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। নির্বাচিত নেতৃত্ব দায়িত্ব নিলে ই-কমার্স খাতের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব, নীতিগত কার্যক্রম ও সদস্যসেবা আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
//ইএইচইসি/এমআইএসটি/ডিএমপি//