দেশের সাধারণ নাগরিকের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে রাষ্ট্রীয় মনোপলি ভেঙে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন কেবল উন্মুক্ত করা এবং সক্রিয় শেয়ারিং নীতি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ মঙ্গলবার রাজধানীর স্কাইলাইন রেস্টুরেন্টে টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক কর্মশালা ও আলোচনা সভায় এ অভিমত ব্যক্ত করা হয়।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে টিআরএনবি সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিন কোয়ালিটি ও ব্যয়সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। টিআরএনবির সাবেক সভাপতি সমীর কুমার দে-র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দুটি পৃথক কারিগরি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেটাকো-র প্রজেক্ট লিড মাহমুদ শাহেদ এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) কোষাধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন আহমেদ।
‘সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট’ শীর্ষক উপস্থাপনায় আইএসপিএবির পক্ষ থেকে ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন মঈন উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, "সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে অবকাঠামো তৈরি করলেও নির্দিষ্ট সময় পর তা বেসরকারি খাতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন। শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়লেই চলবে না, বরং কোয়ালিটি ও অর্থবহ ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্যান্ডউইথ সরবরাহে কার্যত একটিমাত্র সরকারি উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা থাকায় যেকোনো জটিলতায় মূল ব্যাকআপ লাইনটিই বাধ্য হয়ে প্রাইমারি লাইনে রূপান্তর করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক টেক হাবে রূপান্তর হতে হলে রুট ডাইভার্সিটি বৃদ্ধি, ডমেস্টিক ফাইবার অপটিক্সের সক্রিয় শেয়ারিং এবং ক্যারিয়ার নিউট্রালিটি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।
অন্য উপস্থাপনায় মাহমুদ শাহেদ বলেন, ব্যান্ডউইথ পরিবহন ও সরবরাহে দীর্ঘদিনের সরকারি একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে। বর্তমানে দুটি সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে এককভাবে সেবা দিয়ে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসপিসিএল) তাদের বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছে। কিন্তু বাজার প্রতিযোগিতা বিনষ্ট করে এই মুনাফা সুরক্ষার চেষ্টা বেসরকারি খাতের প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করছে।
তিনি আরও জানান, গুগল, মেটা, আকামাই, ক্লাউডফ্লেয়ার ও অ্যামাজনের মতো বৈশ্বিক টেক জায়ান্টরা বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ জিবিপিএস (Gbps) ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করছে। তবে সহায়ক নীতিমালা এবং অনুকূল কাঠামোর অভাবে তারা দেশে স্থানীয় হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার স্থাপনে পিছিয়ে রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সাবমেরিন কেবল পরিচালনার পূর্ণ অনুমতি দেওয়া হলে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে, ডেটার সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ব্যান্ডউইথের ইউনিট মূল্য ৬০ থেকে ৭০ টাকায় নেমে আসবে।
//ডিবিটেক/ আইএইচ / সম্পাদনা//