কোটি টাকার প্রতারণা ও জালিয়াতি

ফুডপান্ডার এমডিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

  • পণ্য নিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ ও জাল চালানের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা 
  •  সৈয়দা আম্বারিন রেজা ও জুবায়ের সিদ্দিকীসহ শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদেশ
  • সফটওয়্যার থেকে তথ্য মুছে ফেলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় আদালতে মামলা

ফুডপান্ডার এমডিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৫১  

ই-কমার্স ও কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ফুডপান্ডা এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পান্ডামার্টের সফটওয়্যার থেকে ডেটা মুছে ফেলা, সরবরাহকৃত পণ্যের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং ভুয়া ফেরত চালান (আরটিভি) তৈরির মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বুধবার): ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছানাউল্ল্যাহ গুলশান থানার তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৫০৬ ধারার মামলায় এ আদেশ দেন।

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের কো-ফাউন্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দা আম্বারিন রেজা, কো-ফাউন্ডার ও পরিচালক জুবায়ের সিদ্দিকী, পান্ডামার্টের পরিচালক মো. তাবরেজ খান, হেড অব ক্যাটাগরি দিলারা ফারুক এবং সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল হক।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবল' (পিএনপি) এবং 'আইপিএলই ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক'-এর স্বত্বাধিকারী শিহাব মাহমুদ বশির বাদী হয়ে পৃথক চারটি মামলা করেন (মামলা নম্বর ৩৫১৭/২৫, ৩৫১৮/২৫, ৩৫১৯/২৫ ও ৩৫২০/২৫)। বাদীর অভিযোগ, আইপিএলই ও পিএনপির মাধ্যমে গৃহস্থালি পণ্য, ফলমূল ও আমদানি করা খাদ্যসামগ্রী ২০২২ সাল থেকে পান্ডামার্টের অনুকূলে ক্রয়াদেশ (পিও) অনুযায়ী নিয়মিত সরবরাহ করা হতো। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য সরবরাহের বিপরীতে কয়েক কোটি টাকা আটকে রেখে নামমাত্র বা ইচ্ছামাফিক অর্থ ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সরবরাহকৃত পণ্যের মধ্য থেকে বাদীকে কোনো নোটিশ না দিয়েই পণ্য নষ্টের অজুহাতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে ভুয়া 'রিটার্ন টু ভেন্ডর' (আরটিভি) চালান তৈরি করা হয়। এমনকি একই ব্যক্তির জাল স্বাক্ষর সম্বলিত ভুয়া স্লিপ ব্যবহার করে একই দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকায় পণ্য ফেরত দেখানোর কারসাজি করা হয়। এছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ডেটা পান্ডামার্টের মূল সফটওয়্যার থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলার মাধ্যমে ডিজিটাল কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়। চুক্তির বাইরে বেআইনিভাবে ভ্যাট, ট্যাক্স ও বিজ্ঞাপনের অজুহাতে লাখ লাখ টাকা কেটে নেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া অর্থ দাবি করতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এক বছর ধরে গুলশান থানার তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর আদালত এই পরোয়ানা জারি করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র বলছে, তারা জামিন নিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

অন্যদিকে বাদী শিহাব মাহমুদ বশির বলেন, "তদন্তে সত্যতা বেরিয়ে আসায় এবং আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় আমি ন্যায়বিচারের ব্যাপারে আশাবাদী। আমি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আমার সকল ক্ষতিপূরণ চাই।"
//ডিবিটেক/এসএমই/এমআইএসটি/বিপিও//