অননুমোদিত ঋণ ও বিনিয়োগে আর্থিক ঝুঁকি
ক্রসমার্কেট এআই নিয়ে সতর্ক করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- crossmarket.ai’ মাধ্যমে অবৈধ বিনিয়োগ গ্রহণে সতর্কতা জারি
- বিএফআইইউ চিহ্নিত ৩১টি অবৈধ ঋণ অ্যাপ বর্জনের আহ্বান
- ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও অর্থ আত্মসাৎ আইনের দণ্ডনীয় অপরাধ
অ্যাডভান্সড সাইবার সিকিউরিটি প্রোটোকল, ফিনটেক সেফটি ফ্রেমওয়ার্ক এবং ডিজিটাল ডাটা প্রাইভেসি এনক্রিপশনের মানদণ্ড লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘crossmarket.ai’-এর মাধ্যমে অবৈধভাবে বিনিয়োগ সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত এ ধরনের অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ বা যেকোনো লেনদেন দেশের প্রচলিত আইনে অননুমোদিত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘crossmarket.ai’ নামক অনলাইন প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিনিয়োগ গ্রহণ ও আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হচ্ছে। ‘পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’ অনুযায়ী অনুমোদিত নয় এমন কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা বা লেনদেন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে এ ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও অজান্তে আইনগত অপরাধে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছেন। এমতাবস্থায়, সাধারণ নাগরিকদের নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে ‘crossmarket.ai’ সহ এ জাতীয় যেকোনো অবৈধ ও অননুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ ও যেকোনো ধরনের লেনদেন করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নানা গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত অনুমোদনবিহীন ও অবৈধ ঋণ কার্যক্রম থেকে সতর্ক থাকতে সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সংস্থাটি জানায়, সম্প্রতি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনুমোদনবিহীন ঋণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এসব অ্যাপ মূলত ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগের তথ্য (কন্টাক্টস), ছবি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। পরবর্তীতে ঋণ আদায়ের নামে গ্রহীতাদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান ছাড়া কোনো মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা বৈধ নয়। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণামূলকভাবে ঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিএফআইইউ-এর দৃষ্টিগোচর হওয়া ৩১টি অননুমোদিত অ্যাপ হলো— সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরো, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।
গ্রাহকদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪টি সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদান করেছে: ১. কোনো মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। ২. প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অবৈধ ঋণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকুন। ৩. ঋণের প্রলোভনে পড়ে অপরিচিত অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব বা ফোনের সংবেদনশীল তথ্য প্রদান করবেন না। ৪. ঋণ দেওয়ার নামে কোনো অগ্রিম অর্থ, প্রসেসিং ফি বা নিবন্ধন ফি চাওয়া হলে সতর্ক থাকুন।
এ ধরনের অনুমোদনবিহীন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতারিত হলে বা তথ্য জানা থাকলে তা বিএফআইইউ-এর ওয়েবসাইট অথবা মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বিএফআইইউ পরিচালকের দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
//ডিবিটেক/ডিপিবি/এসএমই/বিপিও//





